মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

মিরপুরের ‘জঙ্গি আস্তানায়’ সাত জনের খুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার মিরপুরে ঘিরে রাখা ‘জঙ্গি আস্তানায়’ বিস্ফোরণের ঘটনার পর তল্লাশি চালিয়ে সাতজনের খুলি ও পোড়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

এ বাহিনীর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বুধবার বিকালে সাংবাদিকদের বলেন, “ছয়তলা ভবনটির নিচ থেকে তল্লাশি চালিয়ে পঞ্চম তলা পর্যন্ত পৌঁছেছেন র‌্যাব সদস্যরা। জঙ্গি আবদুল্লাহ যে বাসায় ছিল, সেখানে মানুষের অঙ্গপ্রতঙ্গ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সাতটি স্কাল দেখে আমরা মনে করছি, সাতজনের লাশ রয়েছে সেখানে।”

র‌্যাবের ধারণা, ওই সাতজন হলেন সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী নাসরিন ও ফাতেমা, দুই ছেলে ওমর ও ওসামা, যাদের বয়স তিন থেকে নয় বছর এবং আবদুল্লাহর দুই কর্মচারী, যাদের নাম জানা যায়নি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে পঞ্চম তলায় বিস্ফোরণের পর ২/২ ফুট গর্ত হয়ে আগুন চার তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। চার তলা পর্যন্ত পরিষ্কার করা হয়েছে। পাঁচতলার তাপমাত্রা এখন অনেক বেশি। ৫০-৫৫ ডিগ্রি তাপমাত্র রয়েছে সেখানে। বেশিক্ষণ সেখানে থেকে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই পুরো পঞ্চম তলা পরিষ্কার করতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। সেখানে থাকা সব বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ হয়েছে।

র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ২০০৫ সালে জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয় জঙ্গি আবদুল্লাহ। ২০১৩ সালে তিনি নব্য জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়। তার বাসায় জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া হতো। এছাড়া তিনি জঙ্গিদের অর্থের যোগান দিয়েছে। ওই বাসায় সরোয়ার জাহান, তামিম চৌধুরীর যাতায়াত ছিল। সরোয়ার-তামিম গ্রুপের একজন শুরা সদস্য কারাগারে বন্দি আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই আবদুল্লাহর নাম জানতে পেরেছিল র‍্যাব। বছর খানেক ধরেই তারা আবদুল্লাহকে খুঁজছিল। অবশেষে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচানো সম্ভব হলো। তার বাসায় যে পরিমাণ বিস্ফোরক ছিল তা দিয়ে বড় ধরেন নাশকতা চালানো সম্ভব হতো।

র‍্যাবের ফরেনসিক টিমের একজন সদস্য বলেন, পঞ্চম তলার রুমের ফ্ল্যাটের তিন রুমে মৃতদেহগুলো ছড়ানো ছিটানো ছিল।

এর আগে সকাল থেকে জঙ্গি আস্তানায় দ্বিতীয় দিনের অভিযান শুরু করে র‍্যাব।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *