মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

আকায়েদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি: বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিউইয়র্কে বাস টার্মিনালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সেদেশে আটক আকায়েদ উল্লাহ’র বাংলাদেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, আকায়েদ উল্লাহ দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ দেশের কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও তার জড়িত থাকার প্রমাণ এ পর্যন্ত মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ধারণা করছি আকায়েদ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেলফ র‌্যাডিকালাইজড হয়েছে। তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা তাদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছি তাতে মনে হয়েছে ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আকায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিল।

ঢাকার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের জিগাতলার বাসা থেকে মিন্টু রোডের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় সোমবার সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি বাস টার্মিনালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশি অভিবাসী আকায়েদ উল্লাহকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। এ ঘটনায় পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে সোমবার বোমা বিস্ফোরণের জন্য অভিযুক্ত আকায়েদ উল্লাহ নামের বাংলাদেশি যুবক ওই হামলার আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে পুলিশ যেসব অভিযোগ এনেছে তার মধ্যে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান এবং জনসমাগমে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার এবং বোমা হামলার অভিযোগ রয়েছে।

ম্যানহাটন পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে সোমবার সকালের ব্যস্ত সময়ে শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে আকায়েদ উল্লাহ নিজে এবং আরো তিনজন আহত হয়। ওই হামলার আগে এক পোস্টে আকায়েদ উল্লাহ লেখেন, ‘ট্রাম্প তুমি তোমার জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ। ‘

কৌঁসুলিরা বলছেন, ২৭ বছর বয়সী এই যুবক ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমন হামলার চেষ্টা চালায়।

প্রসিকিউটররা যে অভিযোগ দায়ের করেছেন সে অনুসারে আটকের পর মিস্টার উল্লাহ আইএসের হয়ে এই কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি আইএস বাহিনীকে লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান হামলা কারণে এমন বিস্ফোরণের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন বলেও তদন্তকারীদের কাছে বলেছেন।

২০১১ সালে ফ্যামিলি ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্র যান আকায়েদ উল্লাহ। পরে বিয়ে করতে ২০১৬ সালে ঢাকায় আসেন আকায়েদ সে সময় থেকে তার স্ত্রী ঢাকাতেই বসবাস করছেন। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকায় তার স্ত্রী ও শ্বশুরকে গতকাল সোমবার তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।

এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে আকায়েদ তার শিশুসন্তানকে দেখতে ঢাকায় এসেছিলেন এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। সে সময় আকায়েদ কাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেছে বা কাদের সঙ্গে মিশেছে অথবা বাংলাদেশের অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার কোনোরকম যোগাযোগ আছে কি-না তা জানতে তারা আকায়েদের স্ত্রী ও শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের সন্দ্বীপের মুছাপুর ইউনিয়নের ভটান তালুকদার বাড়ির সন্তান আকায়েদ উল্লাহ। তারা বাবা মো. সানাউল্লাহ ঢাকার হাজারীবাগে বসবাস করতেন। চামড়ার ব্যবসা ছিল তার। সে সুবাদে আকায়েদ উল্লাহ হাজারীবাগেই বড় হয়েছেন। সেখানে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। শিবিরের বিভিন্ন সাংগঠনিক তৎপরতায় তার সরব উপস্থিতিও ছিল। অভিবাসন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর এখানে জামায়াত-শিবিরের সমর্থকদের সমন্বয়ে গঠিত মুসলিম উম্মাহ কিংবা একই শ্রেণির প্রবাসীদের নিয়ে কর্মরত কোন সংগঠনের সঙ্গে আকায়েদ উল্লাহকে দেখা যেত না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আকায়েদ উল্লাহর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত এক প্রবাসী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন। আকায়েদ উল্লাহ বরাবরই নিজের মধ্যেই নিবিষ্ট থাকতেন।
মাঝে-মধ্যে মসজিদে গেলেও কারো সঙ্গে কথা বলতেন না।

সন্দ্বীপ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপে তাদের আসা-যাওয়া না থাকায় আকায়েদের পরিবার সম্পর্কে এলাকাবাসীর তেমন ধারণা নেই। এলাকার কেউ কেউ তার বাবাকে চিনলেও আকায়েদকে চেনেন এমন কোনো ব্যক্তি এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আকায়েদের চাচাতো ভাই সোহরাব হোসেন থাকেন চট্টগ্রামে। খবর পাওয়ার পর তিনি সন্দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। আকায়েদের পূর্বপুরুষ সম্পর্কে এখনো কোনো নেতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *