বিশেষ প্রতিনিধি: দলীয় কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীরা অংশ নিচ্ছেন কি না, সেই খোঁজ রাখতে ‘দলীয় গোয়েন্দা’ নামিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির আন্দোলনের সামর্থ্য নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রশ্ন তোলার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সমাবেশে এই সতর্কবার্তা দেন তিনি। ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভাটির আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
খালেদা জিয়া বলেন, “মোবাইলের জ্বালায় এখন আমি বিরক্ত হয়ে গেছি, ছবি ওঠাবে। আমি বলতে চাই, শুধু চেহারা দেখালে চলবে না, মোবাইলে ছবি ওঠালে চলবে না। ১০/১২ জন লোক নিয়ে একটা ছবি ওঠাল, বলল-আমি রাস্তায় ছিলাম, আমি আন্দোলনে মিছিল করেছি। এগুলো আর চলবে না। আমরাও বিকল্প ব্যবস্থা করেছি এখন। আমরা খবর রাখছি, তোমরা কীভাবে চলছ। কর্মসূচি দিলে কীভাবে সেটা পালন করছ, সেগুলো দেখার জন্য আমরা আমাদের গোয়েন্দা নিয়োগ করেছি।”
ছাত্রদলের সমাবেশে একথা বললেও এই নজরদারিতে যে সব সংগঠনেই রয়েছে, তাও জানিয়ে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
তিনি বলেন, “বিএনপির নেতৃবৃন্দও থাকবে তার মধ্যে। কেউ বাদ যাবে না। যাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাকে সেই কাজ করতে হবে।”
‘আগুন জ্বালো স্লোগান বাদ দাও’
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা বলেন, “তোমাদের আরও সুশৃঙ্খল হতে হবে। তাহলে সব কিছু জয় করা সম্ভব হবে। শুধু স্লোগান দিলে চলবে না। বাজে স্লোগান বাদ দিয়ে ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে নতুন নতুন স্লোগান দিতে হবে। পুরনো ‘আগুন জ্বালো’ স্লোগান বাদ দিতে হবে।”
ছাত্রদলের কারাবন্দি সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়াসহ নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন খালেদা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের সমাবেশে পুলিশি হামলার নিন্দাও জানান তিনি।
পুলিশের উদ্দেশে খালেদা বলেন, “আমি বলব, আমার দেশের ছেলে-পেলেকে আর গুলি করে দেশের ক্ষতি কইরেন না। আপনাদেরও ছেলে-পেলে আছে, আপনাদেরও ভাই, বাবা-বোন আছে। তাই আপনারা ছাত্রদের নিজের ছেলে-ভাইয়ের মতো দেখবেন। তারা যদি অন্যায় করে তাদেরকে ধরে নিতে পারেন। তারা কিছুদিন হয়ত সাজা খেটে পরিবর্তন হয়ে আসতে পারে।”
দুপুর ২টায় এই মিলনায়তনে এই সভা হওয়ার কথা থাকলেও ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের কথা বলে মিলনায়তনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তালাবদ্ধ থাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এরপর বেলা তিনটার দিকে দলের নেতা-কর্মীরা মিলনায়তনের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় বিএনপির নেতারা বলেন, তালা না খুললে তাঁরা সেখান থেকে যাবেন না।
বিকালে খালেদা পৌঁছার পৌনে এক ঘণ্টা পর মিলনায়তন খুলে দেওয়া হয়।
বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া মিলনায়তনের সামনে এসে উপস্থিত হন। তখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় খালেদা জিয়া তাঁর গাড়িতে বসে অপেক্ষা করছিলেন। মিলনায়তন বরাদ্দ পাওয়ার পরও কেন তা খুলে দেওয়া হয়নি, বিষয়টি জানতে চান খালেদা জিয়া। এরপর তিনি তাঁর গাড়িতে অবস্থান করেন। দলীয় প্রধানের অপেক্ষার সময় দলের নেতারা স্লোগান দিতে থাকেন। এর একপর্যায়ে বিএনপির এক নেতা বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে মাইকে ঘোষণা করেন যে কর্তৃপক্ষ বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মানে মিলনায়তনের তালা খুলে দিয়েছে। এরপর দলের নেতা-কর্মীরা মিলনায়তনে প্রবেশ করেন। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া আলোচনা সভার মঞ্চে যোগ দেন।
‘হাসিনার অধীনে নির্বাচন না’
শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার তার গত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে এবার তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘এই পার্লামেন্ট রেখে নির্বাচন হবে না। আর হাসিনার অধীনেও নির্বাচন হবে না। আমরা বিএনপি, নির্বাচনী দল। আমরা নির্বাচন করব। বাইরে রাখতে চাইলেই রাখা যাবে না, নির্বাচন করব আমরা।’
আগামী ৫ জানুয়ারি গত নির্বাচনের চার বছর পূর্তি হচ্ছে। সে হিসেবে এক বছর আছে চলমান সংসদ। খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই তাদের অধীনে নির্বাচন হতে পারে না। আজকে পার্লামেন্ট বলে কিছুই নেই। হাসিনারা ক্ষমতায় থাকার জন্য পার্লামেন্ট রেখে নির্বাচন করার ব্যবস্থা করেছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এঁরা কেউ ভোটই পাননি। এঁরা পার্লামেন্টের সাংসদ থাকার যোগ্য নন। কাজেই পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হবে। আমরা নির্বাচন করব। কিন্তু সে নির্বাচনটি হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। হাসিনার অধীনে নয়। সেই নির্বাচনই এই দেশে হবে। কারণ, সারা পৃথিবী বুঝে গেছে হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, হবে না। সেটা মানুষ বুঝেছে।’



Leave a Reply