নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে নাখালপাড়ায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের বিশেষ বাহিনী র্যাবের অভিযানে তিনজন নিহত হয়েছে। র্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই আস্তানা থেকে ইম্প্রোভাইজম এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস, বিস্ফোরক জেল ও পিস্তল পাওয়া গেছে।
পশ্চিম নাখালপাড়ার পুরোনো এমপি হোস্টেলের পেছনে রুবি ভিলা নামের একটি ছয়তলা বাড়িতে রাত ২টা থেকে অভিযান শুরু করে র্যাবের সদস্যরা। শুক্রবার ভোরে জঙ্গিদের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়। ভোরে ফজরের নামাজের আগ পর্যন্ত থেমে থেমে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কথা জানান নাসির ও আশপাশের বাড়ির বাসিন্দারা।
র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, অভিযানের পর তারা সেখানে তিনজনের মৃতদেহ দেখতে পেয়েছেন। তারা গ্যাসের চুলার উপর গ্রেনেড রেখেও বিস্ফোরণের চেষ্টা করেছিল। তবে এখনো নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তবে তাদের বয়স ২০-৩০ বছরের মধ্যে বলে র্যাব জানিয়েছে। র্যাব বলছে, নিহত ওই তিন তরুণ নিষিদ্ধ জঙ্গি দল জেএমবির সদস্য। তাদের ঘরে তিনটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), তিনটি সুইসাইড ভেস্ট, ১৪টি ডেটোনেটর, চারটি পাওয়ার জেল ও দুটি পিস্তল পাওয়া গেছে।
ছয়তলা বাড়িটির ষষ্ঠ তলার দুই ইউনিটে দুটি মেস। আর পঞ্চম তলার দুই ইউনিটের মধ্যে একটিতে মেস, সেখানেই ছিল জঙ্গি আস্তানা। ভবনের বাকি ছয়টি ফ্ল্যাটে ফ্যামিলি বাসা, আর নিচতলায় গ্যারেজ। অভিযানের শুরুতেই বাড়ির গ্যাস লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ভবনের নয়টি ফ্ল্যাট থেকে ৬১ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে দোতলায় বাড়িওয়ালার বাসায় রাখা হয়।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে, এই জায়গায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে এবং তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এর ভিত্তিতে ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযান চালানো হয়। তখন জঙ্গিরা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করে আর গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হলে র্যাবও পাল্টা গুলি করে। তিনি জানান, রাত ২টার দিকে তারা অভিযান শুরু করেন। কেউ ফটক না খোলায় সেটি ভেঙ্গে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই বাড়িটির কয়েকটি তলায় মেস করে অনেকে বসবাস করে। জঙ্গিদের অবস্থানের খবরে ২০১৬ সালের ১৪ অগাস্ট এবং ২০১৩ সালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দুই দফা এ বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল। ২০১৬ সালের ১৪ অগাস্ট রুবি ভিলায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সন্দেহে ১০/১২ জনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল র্যাব-পুলিশ।



Leave a Reply