নিজস্ব প্রতিবেদক: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মঠবাড়িয়া গ্রামের ধাম আশ্রমে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বরদা মায়ের (কালী) পূজা। বরদা পূজার বৈশিষ্ট্য হলো, বিশাল উচ্চতার কালীদেবীর প্রতিমার পূজা করা। এ বছর আশ্রমে ৮৪ ফুট উচ্চতার কালীদেবীর প্রতিমা দিয়ে পালিত হচ্ছে বরদা মায়ের পূজা। গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া পূজার আনুষ্ঠানিকতা মঙ্গলবার রাতে কবিগানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
আশ্রমের পুরোহিত নির্মল চাঁদ ঠাকুর বলেন, বরদা মা হলো কালীদেবীর বহুরূপের একটি রূপ। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বর বা আশীর্বাদ লাভের আশায় বরদা মায়ের পূজা পালন করেন। ধাম আশ্রমে তিন যুগ ধরে সরস্বতী পূজার আগের দিন থেকে তিন দিনব্যাপী বরদা মায়ের পূজা পালিত হয়ে আসছে। কালীদেবীর পূজা বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া ও চব্বিশ পরগনায় প্রচলিত রয়েছে। তবে এত বড় উচ্চতার প্রতিমার পূজা অন্য কোথাও হয় না। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ মাটির তৈরি কালী প্রতিমা বলে দাবি করেন নির্মল চাঁদ ঠাকুর।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের গুণরাজ নিত্যানন্দ হালদার তার সহকারীদের নিয়ে ১৯ বছর ধরে ধাম আশ্রমের কালীদেবীর প্রতিমা তৈরি করছেন। তারা জানালেন, দক্ষিণের জেলাগুলোতে সারাবছর ধরে প্রতিমা তৈরি করেন তারা। এর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চতার প্রতিমার পূজা হয় মঠবাড়িয়ার ধাম আশ্রমে। তবে অতীতে তাদের এ ধরনের অতি উচ্চতার প্রতিমা গড়ার অভিজ্ঞতা ছিল না। ২০০৭ সালে প্রথম ২১ ফুট উচ্চতার বড় প্রতিমা তৈরি শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন সময় গড়েছেন ২৪, ৩০, ৩৬, ৩৯, ৫২ ও ৬৩ ফুট উচ্চতার প্রতিমা। ২০১৬ তৈরি করেছেন ৬৬ ফুট উচ্চতার প্রতিমা। ২০১৭ সালে তৈরি করেছেন ৮০ ফুট উচ্চতার প্রতিমা। এ বছর করা হয়েছে ৮৪ ফুট উচ্চতার। নিত্যানন্দ হালদার আরও বলেন, তিনজন গুণরাজ এবং ২৫ শ্রমিক আড়াই মাস ধরে তৈরি করেছেন প্রতিমাটি। ৮৪ ফুট উচ্চতার কালী আর ৯০ ফুট দৈর্ঘ্যের মহাদেব প্রতিমা তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা।
৮৪ ফুট উচ্চতার কালী, ৯০ ফুটের মহাদেব
যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন।



Leave a Reply