ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা: ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ সংগঠনটির দুই নেতার সঙ্গে লিটন নন্দীর যে ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে তা দুই বছর আগের বলে জানিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক। এই ছবিকে ছাত্রলীগের সর্বস্তর থেকে ফেসবুকে ‘ভাইরাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, এতে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।
এদিকে পুরনো ওই ছবি প্রচারের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। বাম ধারার সংগঠনটি রোববার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলেছে, ২০১৬ সালে সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি এখন প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা’ হচ্ছে।
ছাত্রদল নেতা আকরাম ও সংগঠনটির সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সরদার আমিরুল ইসলাম সাগরের সঙ্গে লিটন নন্দী ও ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি দাসের ওই ছবি রোববার ফেইসবুকে শেয়ার করেন ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান অনেক নেতাকর্মী। নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনের নামে ‘ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে ছাত্রদলের সঙ্গে গোপন বৈঠক’ দাবি করে ছবিটি শেয়ার করেন তারা।
ছবিটি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন লেখেন, “আমরা অনেকবার বলেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আন্দোলনটি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন ছিল না। বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর নেপথ্যে ছিল ছাত্রদল-শিবির। এই আন্দোলনকে বেগবান কীভাবে করা যায় এই নিয়ে ঢাকার একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক একরামুল হাসানের সাথে বৈঠক করেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি তুহিন কান্তি।”
সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ছাত্রীদের ‘শ্লীলতাহানিতে’ জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বহিষ্কার দাবিতে সম্প্রতি আন্দোলনে নেমে হামলার শিকার হন লিটনসহ বামপন্থি কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপাচার্যকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করলে গত ২৩ জানুয়ারি তাদের বেধড়ক পেটায় ছাত্রলীগ।
এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই আন্দোলনে বাম ছাত্র সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদল-শিবিরের লোকও ছিল।
সেই দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে আকরামের সঙ্গে লিটনের ওই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন তারা। ছবিটি পোস্ট করে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ লেখেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কতিপয় বাম সংগঠনের আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র গুলোর আসল চিত্রই এটি। আমরা ভুল করি না, ছাত্রলীগ ভুল করে না।”
তাদের অভিযোগ নাকচ করে লিটন ফেসবুকে ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, “ছবিটি ২০১৬ সালের। আমি তখন সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি এবং তুহিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিল। তখন ছাত্রদলের সঙ্গে নতুন কমিটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলাম। একই সাক্ষাৎ আমরা ছাত্রলীগের সঙ্গে মধুর ক্যান্টিনেও করেছিলাম। আর আজানার কথা নয়, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিগত ৬ মাসের অধিক সময় জেলে। আর তখনকার ছবির অবয়বের সঙ্গে বর্তমান অবয়বের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তো বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।”
একই কথা বলা হয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিএম জিলানী শুভ ও সাধারণ সম্পাদক লিটনের যৌথ বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, “যেখানে ৩ মাস ধরে আকরামুল হাসান কারান্তর ও সাগর ৬ মাসেরও অধিক আগে বহিষ্কৃত, সেখানে এই ছবির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের বৈঠকের প্রশ্নই ওঠে না। যা ছাত্রলীগ ও কিছু সংবাদ মাধ্যমের মিথ্যাচার। যারা এই মিথ্যাচারের সাথে লিপ্ত হয়েছেন তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন,” বলা হয়েছে এতে।
ছবিটি পুরনো, সে কথা স্বীকার করেছেন ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগও। তবে তার দাবি, ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন নেতাদের ‘ধারাবাহিক গোপন মিটিংয়ের’ প্রমাণ এর মাধ্যমে হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ বলেন, “যে ছবিটা দেখছেন এটা মিটিংয়ের ধারাবাহিকতার একটি ছবি। মিটিং এর আগে-পরে (আকরাম) গ্রেপ্তার হতে পারে, সেটা বিষয় নয়। এই মিটিংয়ের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া তারা বাস্তবায়ন করেছে গত ২৩ জানুয়ারি।”
তবে ছাত্র ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রতিটি সম্মেলনের পরে অন্য সংগঠনের সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন নেতাদের পরিচিতির ‘প্রচলিত রীতির’ অংশ হিসাবে ছাত্রদল নেতার সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল। এই রীতি অনুযায়ী প্রগতিশীল ছাত্রজোট, ছাত্রলীগ, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সাথে মধুর ক্যান্টিনে পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের আমন্ত্রণে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় একটি রেস্টুরেন্টে। এটি কোনো গোপন বৈঠক ছিল না।”



Leave a Reply