নিজস্ব প্রতিবেদক: আড়াই মাস আগে বাংলাদেশের প্রথম হিন্দু প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পর আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। শুক্রবার বেলা সোয়া দুইটায় প্রধান বিচারপতি নিয়োগসংক্রান্ত পত্রে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি। শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনে প্রধান বিচারপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেবেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এতোদিন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারক হিসেবে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা। বিচারক হিসেবে ওয়াহহাব মিঞার চাকরির বয়স আছে আর ১০ মাস। অন্যদিকে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের চাকরি আছে আরও তিন বছর।
নানা নাটকীয়তার মধ্যে বিচারপতি এস কে সিনহা গত নভেম্বরে পদত্যাগ করার পর থেকে প্রধান বিচারপতির পদটি শূন্য। সময় গড়ালেও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না হওয়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রতিনিয়ত প্রশ্নের মুখে পড়ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক; এটা ‘রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার’ বলে প্রশ্ন এড়াচ্ছিলেন তিনি।
সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ১৯৮১ সালে জেলা আদালতে এবং ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত হন। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি নিযুক্ত হন তিনি। সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ মুস্তফা আলী এবং মায়ের নাম বেগম কাওসার জাহান। তিনি বিএসসি ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া লন্ডন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ওরিয়েন্টাল আফ্রিকান স্টাডিজ এবং ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড লিগ্যাল স্টাডিজ থেকে ছয় মাসের ‘কমনওয়েলথ ইয়াং ল ইয়ার্স কোর্স’ করেন।



Leave a Reply