নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশের বিরোধী নেত্রী প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে তার অংশগ্রহণও অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শুক্রবার ঢাকায় একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দলের কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রায় চার শতাধিক নেতাকে নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকটি আয়োজনের জন্য বিভিন্ন স্থানে চেষ্টা চালানো হলেও সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই পাঁচ তারকা হোটেলের হলরুম ভাড়া করতে হয় বিএনপিকে। খালেদা জিয়া যখন নিজ ও দলের সম্ভাব্য ‘বিপদ’ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, উপস্থিত বিএনপি নোতার তখন স্লোগান দিতে থাকেন- ‘আমার নেত্রী, আমার মা/ জেলে যেতে দেব না, বন্দি হতে দেব না’।
আশির দশকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে গৃহবন্দি হতে হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। আর ২০০৭-০৮ সময়ের সেনা নিয়ন্ত্রিত তদারকি সরকারের সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করার পর সংসদ ভবন এলাকার একটি ভবনকে উপ-কারাগার ঘোষণা করে তাকে সেখানে রাখা হয়েছিল। আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে এরশাদের পর খালেদা জিয়া হবেন দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় সরকারপ্রধান। অবশ্য খালেদা জিয়া ও তার দল দাবি করে আসছে, তিনি দুর্নীতি করেননি এবং তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই আওয়ামী লীগ সরকার ওই ‘মিথ্যা মামলা’ টেনে রায়ের পর্যায়ে এনেছে।
নির্বাহী কমিটির সভায় খালেদা বলেন, দেশের নিম্ন আদালত যে সরকারের কব্জায়, তা সর্বোচ্চ আদালতও বলছে। এই কারণে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ‘সত্যি কথা বলায়’ সরকার তাকে দেশের বাইরে যেতে এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। হাসিনা সরকারকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে খালেদা বলেন, ‘‘হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি বন্ধ করে দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করুন। আমরা কখনো প্রতিহিংসা করব না।” গ্রেফতারের শঙ্কার কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি যেখানেই থাকি না কেন, আপনাদের সঙ্গে আছি। আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাভ নেই। দলের নেতা ও এ দেশের মানুষের সঙ্গে আছি।’ তিনি দলের নেতাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ-প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ঐক্যবদ্ধ থাকতে নেতা–কর্মীদের পরামর্শ দেন।
নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না অভিযোগ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি খালেদা জিয়া ও তার দল। তবে এই বছরের শেষে হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে আগ্রহী। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ছয়টি শর্ত দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমে।
নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া শর্তগুলো হলো:
ভোট হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আসার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে, ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোবাইল ফোর্স হিসেবে কাজ করবে এবং যন্ত্রে ভোটের জন্য ইভিএম/ডিভিএম ব্যবহার করা যাবে না।



Leave a Reply