মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে অনুষ্ঠান করছে ভারতীয় শিল্পীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে এসে খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠান করায় ভারতীয় দুই শিল্পীকে নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ভিসার নিয়ম ভেঙে এভাবে অনুষ্ঠান করে ভিনদেশী শিল্পীরা কর ফাঁকি দিচ্ছেন অভিযোগ তুলে তা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন বাংলাদেশের শিল্পীদের একাংশ।

মঙ্গলবার ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে ভারতীয় শিল্পী সৌমী ভট্টাচার্য্য ও সাহানা বক্সী একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান করেন। তারা পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুব্রত বক্সীর শ্যালিকা ও স্ত্রী। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “তারা দুজনে বাংলাদেশে এসেছেন ট্যুরিস্ট বা পর্যটক ভিসায়। তারা দুইজনে বাংলাদেশে এসে পারফর্ম করবেন, এমন কোনো তথ্য তারা দেননি। দুইজনে বাংলাদেশে এসে যদি পারফর্ম করেন, তবে সেটা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বেআইনি।”

নিয়মানুযায়ী, বাংলাদেশি আয়োজকরা বিদেশি শিল্পী আনতে গেলে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, রাজস্ব দপ্তর (এনবিআর) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা দপ্তরের অনুমতিপত্র নিতে হয়। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অনুমতিপত্র পেলে তবেই একজন ভিনদেশী শিল্পী বাংলাদেশে এসে অনুষ্ঠান করতে পারেন।

বাংলাদেশের শিল্পীরাও ভারতে গিয়ে অনুষ্ঠান করতে গেলে ভারতীয় দপ্তরগুলো থেকে একই ধরনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফোক শিল্পী মমতাজ ও ব্যান্ড শিল্পী জেমস কয়েকদিন আগে সে অনুমতি পাননি বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান। তারা বলেন, অনেকে ভারতে অনুষ্ঠান করার আমন্ত্রণ পেলেও বিশেষ ভিসা না পাওয়ায় যেতে পারেন না।

প্রায়ই এভাবে ভিনদেশী শিল্পী এনে অনুষ্ঠান করানো হয় বলে জানান বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি তপন মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে এভাবে অন্য দেশের শিল্পীদের এনে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার ব্যাপারটি সত্যি বেআইনি। ভিনদেশের শিল্পীরা অবাধে পারফরম্যান্স করে যাচ্ছে এভাবে, অথচ নজরদারি থাকা উচিৎ ছিল।” বিদেশ থেকে আনা শিল্পীদের মান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী তপন। এভাবে মানহীন শিল্পী নিয়ে আসা ‘নিতান্ত অর্থের অপচয়’ বলেও মনে করেন তিনি। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, “ভিনদেশ থেকে আসা শিল্পীরা যদি নিয়মের ব্যতয় করেন, তবে তা বেআইনি। এ ব্যপারে নজরদারি আরও বাড়ানো উচিৎ।”

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ভেনেসা রদ্রিগেজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দুই শিল্পী ভারতীয় দূতাবাসে কী তথ্য দিয়ে এসেছেন, তা তো আমরা জানি না। আমাদের বলা হয়েছে, তাদের সরকারিভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে এনবিআরে জমা দিয়েছে বলে জানি।” ভারতীয় শিল্পীরা দূতাবাসে তথ্য গোপন করে এলে বা আয়োজকরা গোপন করলে মন্ত্রণালয় কী ভূমিকা নেবে, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি ‘খোঁজ নিয়ে দেখবেন’।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *