চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: ভুমিদস্যুদের হাতে নির্যাতিতা সুনীতি রানী দে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন। গত বুধবার ৪ মে ২০১৬ রাত ১১ টায় কর্তব্যরত চিতিৎসক উনাকে মৃত ঘোষনা করেন। মৃতার একমাত্র সন্তান সমীর দে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রামের ভুমিদস্যু হিসেবে পরিচিত নাসের চৌধুরী জুবলী রোডের এস এ লেইনে সবিতা হোটেলের মালিক মৃত অরুন কুমার দে’র ১০ কাঠা জমির দখল নেয়ার জন্য গত ২২ এপ্রিল তার স্ত্রী সুনীতি রানী দে’র উপর সন্ত্রাসী আক্রমন চালায়। সন্ত্রাসীদের আক্রমনে মারাত্মকভাবে আহত সুনীতি রানী দে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ ১২ দিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
জানা যায়, জুবলী রোডে ১০ কাঠা জমিতে বহুতল বিশিষ্ট ভবন বানানোর জন্য ২০১১ সালে মৃতার স্বামী মৃত অরুন কুমার দে স্থানীয় ডেভেলপার বাবর আলীকে দায়িত্ব দেন। বাবর আলী নগদ পাচ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে আরো পয়তাল্লিশ লাখ টাকা সহ মোট পঞ্চাশ লাখ টাকা দেয়ার কথা উল্রেখ করে অরুন কুমার দে’র সঙ্গে চুক্তি করেন।
এর কিছুদিন পর চট্টগ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী নাসের চৌধুরী সে ভবনের স্থানে মসজিদ এবং মাদ্রাসা করার জন্য সমীরকে সে স্থান থেকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। সমীরকে মালিকানা ছেড়ে দেয়ার জন্য নানা রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নাসের চৌধুরীর সন্ত্রাসী বাহিনী।
সমীর তাদের প্রস্তাবে রাজী না হলে সন্ত্রাসীরা সমীরের মা সুনীতি রানী দে’কে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করে। ঘটনার বিবরনে প্রকাশ কোর্টের আদেশে নির্মানাধীন ভবনের কাজ বন্ধ রাখা হয়। ঘটনার দিন সুনীতি রানী খবর পান সন্ত্রাসীরা কোর্টের আদেশ উপেক্ষা করে সেখানে কাজ শুরু করেছে। তিনি ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা একযোগে তার উপর আক্রমন করে। এক পর্যায়ে সুনীতি রানী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সে সময় সন্ত্রাসীরা চলে যায়।
সুনীতি রানীকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎক উনাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখেন। সেখানে অচেতন অবস্থায় ১২ দিন থাকার পর সকল চিকিৎসার উর্ধে চলে যান সুনীতি রানী দে।
এ বিষয়ে মৃতার সন্তান হত্যা মামলা দায়ের করতে থানায় গেলে থানা মামলা গ্রহনে অস্বীকৃতি জানায়।


