মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

এই বয়সেই সংসারের বোঝা কাঁধে তুলে নিয়েছে আশিক

জেলা প্রতিনিধিঃ যে বয়সে বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সেই বয়সে ছোট তিন ভাই-বোনের ভবিষ্যত ভেবে সংসারের বোঝা কাঁধে তুলে নিয়েছে ১২ বছরের শিশু আশিক। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে বাবা-মাহীন শিশুটি।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কষবা গ্রামের রাশিদুল ইসলামের ছেলে আশিক। বাবা থেকেও নেই। তিন বছর আগে মারা গেছে মা। ছোট ভাই মুস্তাকিম, রিয়াজ ও বোন কুলছুমের মুখে ভাত তুলে দেয়ার জন্য দাদার চায়ের দোকানটিকে এখন আয়ের একমাত্র উৎস হিসেবে নিয়েছে সে। ছোট দুই ভাই ও বোনের ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন দেখে আশিক।

জানা গেছে, সাত বছর আগে পরকীয়ায় জড়িয়ে স্ত্রী ও চার শিশু সন্তান রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেন রাশিদুল ইসলাম। এতে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন প্রথম স্ত্রী সানোয়ারা। রাশিদুল প্রতিবেশীদের চাপে প্রথম স্ত্রী ও চার সন্তানের দেখাশোনা করলেও তিন বছর আগে স্ত্রী সানোয়ারা মারা যাওয়ার পর সন্তানদের সব দায়িত্ব ছেড়ে দেন। চার শিশু সন্তানের মুখে ভাত তুলে দেয়ার জন্য রাশিদুলের বাবা লালন তার পুরনো চায়ের দোকানটি চালু করেন। বৃদ্ধ দাদার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সব স্বপ্ন শেষ করে সংসারের বোঝা মাথায় তুলে নেয় আশিক।

আশিকের দাদা লালন জানান, ছোট বেলা থেকেই বেশ মেধাবী ছিল আশিক। গ্রামের পাঠশালায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে সে। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু সে স্বপ্ন ভেঙে গেছে তার। বাবার দ্বিতীয় বিয়ে ও মায়ের মৃত্যু সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। বাবা-মা না থাকায় একদিকে যেমন খাবারের কষ্ট অন্যদিকে বাসস্থানের সমস্যাটাও প্রকট। একটি ঝুপড়ি ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে তাদের বসবাস।

ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখেল আলী জানান, বাবার নৈতিক স্খলনের কারণে চারটি সন্তানের আজ দুর্দশা। একই গ্রামে বসবাস অথচ দ্বিতীয় স্ত্রীর প্ররোচনায় সন্তানদের কোনো খোঁজ রাখে না রাশিদুল। কোনো কোনো দিন সন্তানেরা না খেয়ে থাকে। প্রতিবেশিরা এসব এতিমদের খবর নিলেও বাবা তাদের খোঁজ নেয় না। মানবিক দৃষ্টিতে তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলারা রহমান জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। আশিকের দোকানটি সুন্দর করে ব্যবসার উপযোগী করে দেবেন এবং একটি বাড়ি তৈরি করে দেবেন। এ ছাড়াও ওই শিশুদের জন্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন ইউএনও।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *