মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করেছে মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরবেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কুয়ালালামপুর।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জুলাইয়ে জানিয়েছিলেন, দেশটির স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মিয়ানমারের সামরিক সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার সদস্যকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের মাঝামাঝি মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক আটক ছিলেন। তবে তাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, অভিবাসন অবস্থা, আশ্রয় আবেদন এবং নিরাপত্তাগত পটভূমি যাচাই করতে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে। এই যাচাইয়ের কাজ বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছিল, প্রত্যাবাসনের পর শরণার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়লে তাদের ফেরত পাঠানো হবে না। মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেন, ‘মালয়েশিয়া একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে ৫ হাজার মিয়ানমার শরণার্থীকে ফেরত পাঠাবে না, যদি তারা নির্যাতনের শিকার হন অথবা তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে।’

তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, বর্তমানে মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি নেই। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এখনও যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলেছে।

নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। যদিও দেশটি ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীর মর্যাদাও স্বীকৃতি দেয় না। তারপরও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছে মালয়েশিয়া।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হিসাবে, দেশটিতে ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি, যা দেশটির সবচেয়ে বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠী। গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার নয় বছর পূর্ণ হয়েছে। সে সময় সামরিক দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। বর্তমানে বাংলাদেশে সেই সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *