রাজিব বেপারী|| ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক হ্যানসাল মেহতার প্রযোজনায় নির্মিত ‘বার্ডস ইন দ্য ডার্ক’ (Hanere De Panchi) সিনেমার বিশ্ব প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে ৩১তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (BIFF)। আগামী ৬ থেকে ১৫ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উৎসবের ভিশন (Vision) বিভাগে সিনেমাটির প্রথম প্রদর্শনী হবে।
‘বার্ডস ইন দ্য ডার্ক’ লিখেছেন, চিত্রগ্রহণ করেছেন এবং পরিচালনা করেছেন শশাঙ্ক ওয়ালিয়া। গ্রামীণ পাঞ্জাবের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমাটি সাদাকালোতে ধারণ করা হয়েছে। এতে পাঞ্জাবি ভাষার পাশাপাশি কাশ্মীরি ও উর্দু উপভাষারও ব্যবহার রয়েছে।
সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন টু ব্ল্যাক স্কোয়ার্সের রীমা কৌর এবং ট্রু স্টোরি ফিল্মসের হয়ে হ্যানসাল মেহতা ও সাহিল সাইগাল। লিঙ্গ, জাতপাত ও শ্রেণির মতো সামাজিক বাস্তবতার বিভিন্ন স্তরকে গল্পের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের ভিশন বিভাগ এশিয়ার স্বাধীনধারার সিনেমা ও নির্মাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। ব্যক্তিগত, সাহসী ও প্রচলিত ধারার বাইরে থাকা গল্পকে গুরুত্ব দেওয়া এই বিভাগে ‘বার্ডস ইন দ্য ডার্ক’-এর নির্বাচিত হওয়াকে সিনেমাটির নির্মাতারা বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
সিনেমাটির নির্বাচনের বিষয়ে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও চিত্রগ্রাহক শশাঙ্ক ওয়ালিয়া বলেন, ‘বার্ডস ইন দ্য ডার্ক’ মানুষের মধ্য থেকেই উঠে এসেছে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছেই ফিরে যায়। পারস্পরিক সহযোগিতা, যত্ন ও সংহতির মধ্য দিয়ে একে অন্যকে বোঝার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সিনেমাটির জন্ম। মানুষের এই ছোট ছোট উদ্যোগের মধ্যেই এমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায়, যা আমাদের একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত করে, যার জন্য লড়াই করা মূল্যবান এবং শেষ পর্যন্ত যা আমাদের টিকিয়ে রাখে—ভালোবাসা।
সিনেমাটির প্রযোজক ও সম্পাদক রীমা কৌর বলেন, দৈনন্দিন জীবনের নীরব ও সাধারণ ছন্দ এবং সেই জীবনের ভেতরে থাকা মানুষের দৃঢ়তাকে তুলে ধরার আন্তরিক চেষ্টা করা হয়েছে এই সিনেমায়। স্থানীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে বসবাস, তাদের গল্প শোনা এবং তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সম্মিলিত শক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন তারা। পুরো অভিজ্ঞতাটিকে তিনি গভীরভাবে বিনয়ী করে দেওয়ার মতো একটি যাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বুসানে সিনেমাটির প্রদর্শনী নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হ্যানসাল মেহতা বলেন, ‘বুসানে এটি আমার তৃতীয় সিনেমা। এর আগে পরিচালক হিসেবে “আলিগড়” ও “ওমের্তা” নিয়ে এই উৎসবে গিয়েছি। এবার শশাঙ্কের লিঙ্গ, শ্রম, ন্যায়বিচার ও ভালোবাসা নিয়ে নির্মিত অসাধারণ ধ্যানমগ্ন এই সিনেমার মধ্য দিয়ে বুসানে প্রযোজক হিসেবে অভিষেক হচ্ছে—এ জন্য আমি গর্বিত।’
ট্রু স্টোরি ফিল্মসের প্রযোজক সাহিল সাইগাল বলেন, মূলধারার কাজের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও নির্মাতাকেন্দ্রিক কণ্ঠকে সবসময়ই সমর্থন করতে চেয়েছে তাদের প্রতিষ্ঠান। ‘বার্ডস ইন দ্য ডার্ক’ বুসানের মতো একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চেই থাকার যোগ্য এবং সিনেমাটি সেখানে নিয়ে যেতে পেরে তারা গর্বিত।
১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব। এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব হিসেবে এটি নতুন ও স্বাধীনধারার সিনেমার জন্য আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত। এশিয়ার চলচ্চিত্র নির্মাণকে বিশ্বের দর্শকদের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি নতুন নির্মাতা ও ভিন্নধারার গল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরাই এই উৎসবের অন্যতম প্রধান ভূমিকা।
‘বার্ডস ইন দ্য ডার্ক’-এর বুসানে বিশ্ব প্রিমিয়ারের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার স্বাধীনধারার চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে যাচ্ছে।



Leave a Reply