মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

তোমাকে অনেক ভালোবাসি—নেপালে নিখোঁজ নববধূর শেষ কথা

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হওয়ার আগে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী সুমিত্রার সঙ্গে শেষ কথোপকথনের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ইস্ট সাসেক্সের বাসিন্দা প্রমোদ পৌডেল।

ঘটনার দিন (২৬ আগস্ট) ৩৪ বছর বয়সী ট্রাকচালক প্রমোদ বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে ফোনে সর্বশেষ কথা বলেন তাঁর ২৫ বছর বয়সী স্ত্রী সুমিত্রার সঙ্গে। নিয়মিত কথোপকথন শেষ করার আগে সুমিত্রা হঠাৎ তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ এরপর আর স্ত্রীর কোনো খোঁজ পাননি প্রমোদ।

চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের সীমান্তের কাছে একটি হিমবাহ ধসে পড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ওই কথোপকথন হয়। সোল নামে যে গ্রামটিতে প্রমোদের পরিবারের সঙ্গে সুমিত্রা অবস্থান করছিলেন, ভয়াবহ বন্যায় সেই গ্রামটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্ত্রীর সন্ধানে প্রমোদ ইতিমধ্যে নেপালে পৌঁছেছেন। একই সঙ্গে তিনি খুঁজছেন তাঁর মা তুলিসা (৫২), ভাই পারদিপ (৩১) এবং চাচা মাধবকে (৬৪)। তাঁরাও বন্যার পর থেকে নিখোঁজ।

প্রমোদ বলেন, নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে তিনি এখনো আশাবাদী। তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ও বাড়িঘর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। যে গ্রামে তাঁর স্বজনেরা বসবাস করতেন, সেখানে এখন প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই।

নেপালে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ৭৫০ ছাড়িয়েছে। এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বাড়তে থাকায় উদ্ধারকারীদেরও উঁচু এলাকায় সরে যেতে হয়েছে। বন্যায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি সুড়ঙ্গ পুনরায় চালু করতে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।

রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও উদ্ধারকারীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

উদ্ধারকারীদের হাতে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৭ বছর বয়সী গুনা মায়া বোহারা অন্যতম। বন্যায় তাঁর বৃদ্ধাশ্রমটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তার নাতি-ভাতিজা দীপাক বলেন, উদ্ধারের পর তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন যুদ্ধ শেষে কোনো ‘যোদ্ধা’ ঘরে ফিরেছেন।

 

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *