বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আফসানার সন্দেহভাজন হত্যাকারী ছাত্রলীগ নেতা রবিন ভারতে

আফসানার সন্দেহভাজন হত্যাকারী ছাত্রলীগ নেতা রবিন ভারতেমিরপুরের সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী আফসানা ফেরদৌসের রহস্যজনক মৃত্যু মামলার মূল সন্দেহভাজন রবিন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। অথচ মাত্র এক মাসেই এ মামলাটিকে পুরনো মামলা বলে চিহ্নিত করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে কাফরুল থানার ইন্সপেক্টর আসলাম বলেন, ‘এ তো অনেক পুরনো হয়ে যাওয়া মামলা। ওভাবেই আছে। অগ্রগতি নেই।’

এদিকে রবিনের পরিচিতজনেরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন, গা-ঢাকা দিতে রবিন দেশত্যাগ করেছেন বলেই তাদের ধারণা। আফসানার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আন্দোলন শুরুর পরপরই ছাত্রলীগের তেজগাঁও কলেজের সাংগাঠনিক সম্পাদক ও আফসানার প্রেমিক হাবিবুর রহমান রবিন সড়ক পথে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন। তারা বলেন, রবিন পাশের দেশ ভারতে আছেন, এমনটা তারা শুনেছেন এবং রবিনকে ঘটনার পর তারা আর দেখেননি।

রবিন দেশে নাকি বিদেশে এমন কোনও তথ্য জানা আছে কিনা প্রশ্নে ইন্সপেক্টর আসলাম বলেন, ‘রবিন বর্তমানে পলাতক। আমরা তাকে ধরার চেষ্টা করছি। তিনি দেশে না বিদেশে সেটা আমাদের নলেজে নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার বাবা আব্দুল হাই এবং বন্ধু মুসা, আশিকুর রহমান ভূঁইয়া ও সিফাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার তিন বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।’ এই পুলিশ কর্মকর্তা আবারও বলেন, ‘এ তো অনেক পুরনো ঘটনা হয়ে গেছে।’

২৪ আগস্ট আফসানা ফেরদৌসের মৃত্যুর ঘটনায় আল হেলাল হাসপাতালের সিসি টিভির ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরমধ্যে রবিনের চেহারাও দেখা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটকের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক জানান, আফসানার মৃত্যু আত্মহত্যা বলে ধারণা করছেন তারা। তবে স্বজনদের দাবি, আফসানাকে খুন করা হয়েছে। ১৩ আগস্ট মিরপুরের আল হেলাল হাসপাতালে আফসানাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আফসানার মৃতদেহ হাসপাতালে পাওয়ার পর থেকেই এই মৃত্যুর জন্য ছাত্রলীগ নেতা রবিনের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ তোলেন আফসানার স্বজনরা। মিরপুরের আল-হেলাল হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, দুই যুবক আফসানাকে রেখে পালিয়ে যাচ্ছেন, যার মধ্যে একজন রবিন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরবর্তীতে স্বজনরা দাবি করেন, আফসানার লাশ পাওয়ার পর তাদেরকে ‘সমঝোতার’ প্রস্তাব দেওয়া হয় রবিনের পক্ষ থেকে। তাই ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে জোরালো দাবি আফসানার স্বজন, সহপাঠী ও সহকর্মীদের।

অন্যদিকে আফসানা ফেরদৌসের মৃত্যুকে ‘আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা’ বলে যে তথ্য ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দিয়েছেন, তা প্রত্যাখ্যান করলেও কোনও হত্যা মামলা দায়ের করেনি তার পরিবার। আফসানার মামা হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আফসানা আত্মহত্যা করেনি। অনেক প্রশ্নের এখনও জবাব মেলেনি। শুরুতেই রবিনকে ধরার বিষয়ে পুলিশ তৎপর হলে সে পালাতে পারতো না।’

আরও পড়ুন