প্রচ্ছদ / অনলাইন ইনকাম, অন্যান্য, অর্থ-বাণিজ্য, অর্থনীতি, অস্ট্রেলিয়া, আওয়ামী লীগ, আন্তর্জাতিক, আফ্রিকা, আবহাওয়া, আমেরিকা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ইউরোপ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, ইসলামিক গল্প, এশিয়া, করোনা আপডেট, কৃষি, ক্রিকেট, খুলনা-বিভাগ, খেলাধুলা, গ্রাফিক্স ডিজাইন, চট্টগ্রাম বিভাগ, জাতীয়, টালিউড, ট্রেন্ডিং নিউজ, ডিজিটাল মার্কেটিং, ঢাকা বিভাগ, ঢালিউড, তথ্য-প্রযুক্তি, ধর্ম, নাটক, নারী ও শিশু, প্রবাস, ফুটবল, ফ্রিল্যান্সিং, বরিশাল বিভাগ, বলিউড, বাংলাদেশ, বিএনপি, বিনোদন, ভ্রমণ, মধ্যপ্রাচ্য, মুক্তমত, রংপুর বিভাগ, রাজধানী, রাজনীতি, রাজশাহী বিভাগ, লাইফস্টাইল, শিল্প-সাহিত্য, শেয়ার বাজার, শ্রদ্ধাঞ্জলি, সাক্ষাৎকার, সারাদেশ, সাহিত্য, সিনেমা, সিলেট বিভাগ, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, হলিউড

বিদ্যুৎ আবিষ্কার এর ইতিহাস

  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে (১৭৯১-১৮৬৭) ছিলেন একজন ব্রিটিশ পদার্থবিদ ও রসায়নবিদ, যিনি বিদ্যুৎ ও চৌম্বকত্বের ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। ফ্যারাডের আবিষ্কৃত মৌলিক তত্ত্বগুলির মধ্যে অন্যতম হল বিদ্যুৎ চৌম্বক আবেশ (Electromagnetic Induction)। ১৮২০ থেকে ১৮৩০ এর দশকে তাঁর এই তত্ত্ব প্রবর্তন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল, যা আধুনিক সভ্যতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নিবন্ধে, আমরা ফ্যারাডের আবিষ্কার এবং তার প্রভাব বিশদভাবে আলোচনা করবো।

বিস্তারিত আরো দেখুন

ফ্যারাডে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি মূলত স্বশিক্ষিত ছিলেন এবং স্ব-শিক্ষার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু করেন। ১৮১২ সালে ফ্যারাডে স্যার হামফ্রি ডেভির সহযোগী হিসেবে রয়েল ইনস্টিটিউটে কাজ শুরু করেন। ডেভির প্রভাবে, তিনি রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখতে শুরু করেন।

বিস্তারিত আরো দেখুন

১৮২০ সালে হান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়ার্স্টেড বৈদ্যুতিক বর্তমানের মাধ্যমে চৌম্বক ক্ষেত্র উৎপন্ন হয়, তা আবিষ্কার করেন। এর প্রভাব ফ্যারাডের উপর গভীর ছিল। তিনি উপলব্ধি করেন যে, যদি বৈদ্যুতিক বর্তমান চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারে, তবে সম্ভবত চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। এই ধারণা থেকেই ফ্যারাডে তাঁর বিখ্যাত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

বিস্তারিত আরো দেখুন

ফ্যারাডের বিখ্যাত পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলির মধ্যে একটি ছিল একটি লোহার রিং এর চারপাশে তার পেঁচিয়ে একটি সরল বিদ্যুৎ চৌম্বক আবেশ ডিভাইস তৈরি করা। তিনি দেখেন যে, যখন রিংয়ের এক পাশ দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়, তখন অপর পাশে একটি স্রোত উৎপন্ন হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব।

বিস্তারিত আরো দেখুন

ফ্যারাডের বিদ্যুৎ চৌম্বক আবেশ তত্ত্বের মূল ধারণা হল, একটি চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে যদি কোনো পরিবাহী পদার্থ (যেমন তামার তার) স্থানান্তরিত করা হয়, তবে তাতে একটি বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ উৎপন্ন হবে। এই ধারণাটি মূলত ফ্যারাডের সূত্র নামে পরিচিত যা নিম্নরূপ:

E=−dΦBdt\mathcal{E} = -\frac{d\Phi_B}{dt}E=−dtdΦB​​

এখানে,

  • E\mathcal{E}E হল উৎপন্ন ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্স (ইএমএফ),
  • ΦB\Phi_BΦB​ হল চৌম্বক প্রবাহ, এবং
  • dΦBdt\frac{d\Phi_B}{dt}dtdΦB​​ হল চৌম্বক প্রবাহের পরিবর্তনের হার।

ফ্যারাডের আবিষ্কৃত তত্ত্বের ভিত্তিতে, আধুনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াগুলি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে জেনারেটর এবং মোটরগুলি এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। নিচে কিছু সাধারণ পদ্ধতির উদাহরণ দেয়া হল:

জেনারেটর হল একটি যন্ত্র যা যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এতে একটি চৌম্বকক্ষেত্রের মধ্যে একটি কুন্ডলী ঘোরানো হয়। কুন্ডলীর ঘূর্ণনের ফলে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন ঘটে এবং এতে ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্স উৎপন্ন হয়, যা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

মোটর হল একটি যন্ত্র যা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এতে একটি চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, যা চৌম্বক আবেশের মাধ্যমে কুন্ডলীতে একটি বল তৈরি করে এবং কুন্ডলীর ঘূর্ণন ঘটায়। এই ঘূর্ণনের মাধ্যমে মোটর যান্ত্রিক কাজ সম্পাদন করে।

ট্রান্সফরমার হল একটি যন্ত্র যা একটি স্থির চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে একটি ভিন্ন ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। এটি দুটি কুন্ডলী নিয়ে গঠিত হয়, যা একটি লৌহচুম্বকের চারপাশে স্থাপন করা হয়। প্রথম কুন্ডলীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে, এটি দ্বিতীয় কুন্ডলীতে ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্স উৎপন্ন করে।

ফ্যারাডের বিদ্যুৎ চৌম্বক আবেশ তত্ত্ব আধুনিক প্রযুক্তি ও সমাজে বিপ্লব ঘটিয়েছে। এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ও প্রয়োগ নিম্নরূপ:

ফ্যারাডের তত্ত্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান সময়ে পাওয়ার স্টেশনগুলি ফ্যারাডের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এই বিদ্যুৎ তারপর ট্রান্সফরমার ও বিতরণ লাইনগুলির মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছানো হয়

বিস্তারিত আরো দেখুন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Categories

বিদ্যুৎ আবিষ্কার এর ইতিহাস

আপডেট সময় : ০৭:০৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে (১৭৯১-১৮৬৭) ছিলেন একজন ব্রিটিশ পদার্থবিদ ও রসায়নবিদ, যিনি বিদ্যুৎ ও চৌম্বকত্বের ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। ফ্যারাডের আবিষ্কৃত মৌলিক তত্ত্বগুলির মধ্যে অন্যতম হল বিদ্যুৎ চৌম্বক আবেশ (Electromagnetic Induction)। ১৮২০ থেকে ১৮৩০ এর দশকে তাঁর এই তত্ত্ব প্রবর্তন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল, যা আধুনিক সভ্যতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নিবন্ধে, আমরা ফ্যারাডের আবিষ্কার এবং তার প্রভাব বিশদভাবে আলোচনা করবো।

বিস্তারিত আরো দেখুন

ফ্যারাডে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি মূলত স্বশিক্ষিত ছিলেন এবং স্ব-শিক্ষার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু করেন। ১৮১২ সালে ফ্যারাডে স্যার হামফ্রি ডেভির সহযোগী হিসেবে রয়েল ইনস্টিটিউটে কাজ শুরু করেন। ডেভির প্রভাবে, তিনি রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখতে শুরু করেন।

বিস্তারিত আরো দেখুন

১৮২০ সালে হান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়ার্স্টেড বৈদ্যুতিক বর্তমানের মাধ্যমে চৌম্বক ক্ষেত্র উৎপন্ন হয়, তা আবিষ্কার করেন। এর প্রভাব ফ্যারাডের উপর গভীর ছিল। তিনি উপলব্ধি করেন যে, যদি বৈদ্যুতিক বর্তমান চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারে, তবে সম্ভবত চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। এই ধারণা থেকেই ফ্যারাডে তাঁর বিখ্যাত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

বিস্তারিত আরো দেখুন

ফ্যারাডের বিখ্যাত পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলির মধ্যে একটি ছিল একটি লোহার রিং এর চারপাশে তার পেঁচিয়ে একটি সরল বিদ্যুৎ চৌম্বক আবেশ ডিভাইস তৈরি করা। তিনি দেখেন যে, যখন রিংয়ের এক পাশ দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়, তখন অপর পাশে একটি স্রোত উৎপন্ন হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব।

বিস্তারিত আরো দেখুন

ফ্যারাডের বিদ্যুৎ চৌম্বক আবেশ তত্ত্বের মূল ধারণা হল, একটি চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে যদি কোনো পরিবাহী পদার্থ (যেমন তামার তার) স্থানান্তরিত করা হয়, তবে তাতে একটি বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ উৎপন্ন হবে। এই ধারণাটি মূলত ফ্যারাডের সূত্র নামে পরিচিত যা নিম্নরূপ:

E=−dΦBdt\mathcal{E} = -\frac{d\Phi_B}{dt}E=−dtdΦB​​

এখানে,

  • E\mathcal{E}E হল উৎপন্ন ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্স (ইএমএফ),
  • ΦB\Phi_BΦB​ হল চৌম্বক প্রবাহ, এবং
  • dΦBdt\frac{d\Phi_B}{dt}dtdΦB​​ হল চৌম্বক প্রবাহের পরিবর্তনের হার।

ফ্যারাডের আবিষ্কৃত তত্ত্বের ভিত্তিতে, আধুনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াগুলি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে জেনারেটর এবং মোটরগুলি এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। নিচে কিছু সাধারণ পদ্ধতির উদাহরণ দেয়া হল:

জেনারেটর হল একটি যন্ত্র যা যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এতে একটি চৌম্বকক্ষেত্রের মধ্যে একটি কুন্ডলী ঘোরানো হয়। কুন্ডলীর ঘূর্ণনের ফলে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন ঘটে এবং এতে ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্স উৎপন্ন হয়, যা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

মোটর হল একটি যন্ত্র যা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এতে একটি চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, যা চৌম্বক আবেশের মাধ্যমে কুন্ডলীতে একটি বল তৈরি করে এবং কুন্ডলীর ঘূর্ণন ঘটায়। এই ঘূর্ণনের মাধ্যমে মোটর যান্ত্রিক কাজ সম্পাদন করে।

ট্রান্সফরমার হল একটি যন্ত্র যা একটি স্থির চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে একটি ভিন্ন ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। এটি দুটি কুন্ডলী নিয়ে গঠিত হয়, যা একটি লৌহচুম্বকের চারপাশে স্থাপন করা হয়। প্রথম কুন্ডলীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে, এটি দ্বিতীয় কুন্ডলীতে ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্স উৎপন্ন করে।

ফ্যারাডের বিদ্যুৎ চৌম্বক আবেশ তত্ত্ব আধুনিক প্রযুক্তি ও সমাজে বিপ্লব ঘটিয়েছে। এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ও প্রয়োগ নিম্নরূপ:

ফ্যারাডের তত্ত্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান সময়ে পাওয়ার স্টেশনগুলি ফ্যারাডের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এই বিদ্যুৎ তারপর ট্রান্সফরমার ও বিতরণ লাইনগুলির মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছানো হয়

বিস্তারিত আরো দেখুন