বাংলাদেশিরা যাতে গরুর মাংস খাওয়া ত্যাগ করেন সেজন্য গরু চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তে অতিরিক্ত বিএসএফ সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। গরু চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তে আরো কঠোর অবস্থানে যেতে বিএসএফ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
বুধবার ১ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সীমান্তবর্তী একটি ফাঁড়ি পরিদর্শনের সময় বিএসএফ জওয়ানদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রাখুন, যেন বাংলাদেশে গরু পাচার একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই টহল আরো বাড়ানো হলে চোরাচালান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বেড়ে যাবে। আর দাম বেড়ে বাংলাদেশের মানুষ গরুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দেবে।
শুক্রবার ৩ এপ্রিল টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশে গরু না এলে বছরে ৩১ হাজার কোটি রুপি ক্ষতির মুখে পড়বে ভারত। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের জওয়ানরা সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করলে বছরে সোয়া কোটি গরু গোয়ালেই থেকে যাবে। তখন এই গরুগুলো পুষতে যে অর্থ খরচ হবে, তা সমন্বিত শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শিশুপুষ্টির জন্য সরকারের বরাদ্দ অর্থের চেয়ে চার গুণ বেশি হবে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, প্রক্রিয়াজাত মাংস বাংলাদেশে কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা। এই মাংসের উৎস গবাদিপশুর বড় জোগানদাতা ভারত। সম্ভবত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানাননি যে, এই গরুর মাংসের বড় অংশ বাংলাদেশে খাওয়া হয় না, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে রপ্তানি করা হয়।
ভারতের ডেইরি শিল্পের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, দেশটিতে গরুর গড় আয়ু ১৫ থেকে ২০ বছর। ওই গরুগুলোর মারা যাওয়ার পাঁচ বছর আগে দুধ দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু বছরে ২৫ লাখ গরু সীমান্ত দিয়ে পারাপার হয়, সেহেতু এই পাচার বন্ধ করলে বছরে সোয়া কোটি দুধ না দেয়া গরুকে পুষতে হবে। এতে করে গোয়ালের খরচ, রাখালের বেতন ও খাদ্যবাবদ প্রতি গরুর পেছনে খরচ হবে ২৫ হাজার রুপি। এর বার্ষিক পরিমাণ দাঁড়াবে ৩১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে যোগ হবে গোয়ালঘরের জমি নির্ধারণ ও অবকাঠামোগত আনুষঙ্গিক খরচের বিষয়টি। – প্রি




Leave a Reply