ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গড় বিলের নামে ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল দেয়ায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন পিডিবি’র শত শত
গ্রাহক। হয়রানি থেকে বাঁচতে বিল পরিশোধের জন্য বাড়িসহ মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু বিক্রির নোটিশ টানিয়েছেন হতদরিদ্র এক গ্রাহক। তবে পিডিবি’র ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী বলছেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনিয়মের সাথে বিদ্যুৎ অফিসের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামের তালা ও গ্যাস লাইট মিস্ত্রি জবেদ আলীর বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার এক মাসের মাথায় ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম বিল আসে ৩৭ হাজার টাকা। বিল সংশোধনের জন্য ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে দৌড়াদৌড়ি করে সমাধান তো দূরের কথা উল্টো চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ব্যবহৃত ৯০০ ইউনিটের বিপরীতে মোট বিল এসেছে ৪৯ হাজার ২শ’ টাকা। বিল পরিশোধের জন্য তিনি এখন বাড়ির আঙিনায় টানিয়েছেন জমিসহ বাড়ি বিক্রির নোটিশ। পিডিবি’র এমন ভৌতিক বিল নিয়ে দিশেহারা এলাকার শতশত গ্রাহক।
বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগ, পিডিবি’র কিছু অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় অবৈধ সংযোগ দিয়ে যে বিদ্যুৎ চুরি করা হয় তা পুষিয়ে নেয়ার জন্যে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর গড় বিলের নামে বাড়তি বিলের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। গ্রাহকরা জানান, ‘যারা লাইনম্যান আছে তাদের অল্প কিছু টাকা দিলেই তারা অবৈধ সংযোগের ব্যবস্থা করে দেয়। এই সংযোগের বেশিরভাগই ব্যবহৃত হচ্ছে অটো রিকশা চার্যের জন্য। আর এই বাড়তি বিলের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে কৃষকদের ওপর। তবে পিডিবি’র ঈশ্বরগঞ্জ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী বলছেন, অনিয়মের সাথে বিদ্যুৎ অফিসের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঈশ্বরগঞ্জে পিডিবি’র আবাসিক প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গ্রাহকরা যদি আমাদের কাছে কোন অভিযোগ করেন তাহলে অবশ্যই আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো। আমাদের অফিসের কেউ যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নে দুই হাজারেরও বেশি গ্রাহক রয়েছেন বলে পিডিবি সূত্রে জানা গেছে।



Leave a Reply