মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

হিজড়াদের মাদরাসা

24c6ddbaeefff8899152325bd33c10ffহিজড়া, বৃহন্নলা বা রূপান্তরকামী যে নামেই ডাকা হোক সমাজে এরা অচ্ছুত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবাঞ্ছিত। এদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকারটুকু এখনো স্বীকৃতি পায়নি। তৃতীয় লিঙ্গ একটি চরম বাস্তবতা হওয়া সত্ত্বেও সমাজ চোখ বুঁজে বলে- সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে হলে আপনাকে হয় পুরুষ নয়ত নারী হতে হবে। কোনো লিঙ্গ ‘বিকৃতি’ এখানে গ্রহণযোগ্য নয়। যদি বিকৃতি হয়ে থাকে সেটা প্রকৃতির দায়, প্রকৃতির সন্তান হলেও তথাকথিত সমাজ তার দায় নিতে নারাজ।

ইদানীং অবশ্য এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অধিকার আদায়ে বেশ কিছু সংগঠন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোচ্চার হয়েছে। অনেক দেশেই তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইন হচ্ছে। ভোটার তালিকায় তৃতীয় লিঙ্গের ঘর রাখা হচ্ছে।

এমন আন্দোলনেরই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের যোগিয়াকার্তা শহরে অবস্থিত একটি বোর্ডিং স্কুল। স্থানীয় স্কুলটিকে বলা হয় ‘পেসান্ত্রেন ওয়ারিয়া’। এটিকে মাদরাসা বলাই ভালো। কারণ এ স্কুলে হিজড়াদের শুধু ইসলামি শিক্ষা দেয়া হয়।

ইন্দোনেশিয়ার প্রথম এ স্কুলটি চালু হয় ২০০৮ সালে। গত মাসে এর প্রতিষ্ঠাতা মারিয়ানির মৃত্যুর পর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত শুক্রবার আবার চালু হয়েছে। তবে স্কুলটি শিন্তা রাত্রি নামে এক অধিকার কর্মীর বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিন্তা রাত্রি সমকামি, দ্বিচারী (bisexual) এবং হিজড়াদের (এলজিবিটি) অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

স্কুলটিতে এখন ৩৫ জন শিক্ষার্থী। এখানে কাজ করে আয় করার সুযোগও আছে। আগে স্কুলটির একটি বিউটি সেলুন ছিল এবং তারা ঐহিত্যবাহী বিয়ের পোশাক ভাড়া দিয়েও আয় করতো।

স্কুলটি নতুন করে চালুর অনুষ্ঠানে ইন্দোনেশিয়ায় ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রচারক হিসেবে পরিচিত ব্রাদারহুড ফোরামের নেতা আব্দুল মুহাইমিন বলেন, ‘কোরআনের বিধান মোতাবেক, মানুষকে অর্থবিত্ত, সামাজিক অবস্থান, রাজনৈতিক মতাদর্শ, লিঙ্গ এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে শ্রেণীবিভক্ত করার অধিকার আমাদের কারো নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এখানকার শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট শক্ত মনোবলের অধিকারী। সমাজে তারা যতোটা অবজ্ঞার স্বীকার হয় এখানে ততোটাই মানসিক শক্তি পাবে তারা।’

উল্লেখ্য, এক জরিপে দেখা গেছে ইন্দোনেশিয়ার মানুষ সমকামি বা এলজিবিটি অধিকারের চরম বিরোধী। ২০১৩ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টার পরিচালিত সমকামিতা বিষয়ক এক জরিপে দেখা যায়, ৯৩ শতাংশ মানুষ মনে করে সমকামি লোকেরা কোনোভাবেই সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

 

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *