বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বন্দী নেতারা চিকিৎসা পাচ্ছেন না দাবী খালেদা জিয়ার

6a1226f6af2fcf9093e6bc68305a5c1dনিউজ ডেস্ক : বন্দী দলের জ্যেষ্ঠ অসুস্থ নেতারা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ নেতাদের মুক্তিরও দাবি জানান। আজ বুধবার বিকেলে প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ দাবি জানান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আটকাবস্থায় বেআইনি ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে দফায় দফায় পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে এই রাজনৈতিক বন্দীদের অনেকের ওপর দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাঁদের অনেকে বয়সে প্রবীণ এবং নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত। কারাগারে সুচিকিৎসার অভাবে তাঁরা অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুকে রাজশাহী কারাগারে স্থানান্তরের পর সম্প্রতি তিনি কর্তৃপক্ষের নিষ্ঠুর অবহেলায় মৃত্যুবরণ করেন। গুরুতর অসুস্থ মির্জা আলমগীরকে সম্প্রতি তেমন কোনো চিকিৎসা না দিয়েই কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। খন্দকার মোশাররফ অজ্ঞান হয়ে বাথরুমে পড়ে যাওয়ার পরেও তাঁর তেমন কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। এসব ঘটনা তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের।’

‘দেশে বর্তমানে আইনের প্রয়োগ, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার বাহনে পরিণত করা হয়েছে’ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। আইন তার স্বাভাবিক গতিতে চললে, দেশে আইনের শাসন ও সুবিচারের সুযোগ থাকলে এসব ঘটনা ঘটতে পারত না। সরকারের প্রতিহিংসার শিকার কেউ হলে তার প্রতিকার ও প্রতিবিধানের ব্যবস্থা থাকত। কিন্তু সেসব ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে আইনগতভাবে মোকাবিলার পথ খুবই সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে।’

বিএনপিসহ বিরোধী দলমতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলা’ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এসব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হোক। বিশেষ করে আমি অসুস্থ সিনিয়র নেতাদের মুক্তি ত্বরান্তিত করার দাবি করছি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন দলের কয়েকজন কারাবন্দি নেতার উদাহরণ টেনে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি শমসের মোবিন চৌধুরী, বীর বিক্রম, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, আমার উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নান, শামসুজ্জামান দুদু ও মোসাদ্দেক আলী, বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আসলাম চৌধুরী, আবদুস সালাম পিন্টু ও আরিফুল হক চৌধুরীসহ বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের বহু নেতা-কর্মী দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। এরা অনেকেই জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট রাজনীতিক, সাবেক মন্ত্রী এবং নিজ নিজ অঙ্গনে খ্যাতিমান ব্যক্তি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত বিরোধী দলকে দমনের হীন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মিথ্যা ফৌজদারি মামলা এবং সরকারের আজ্ঞাবহ দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা সাজানো মোকদ্দমায় দীর্ঘদিন ধরে এসব নেতার অনেককেই বিনা বিচারে বন্দী করে রাখা হয়েছে।’

‘বন্দী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের জামিন লাভের স্বাভাবিক অধিকারও এখন সরকারের তীব্র বিরোধিতার মুখে ক্ষুন্ন হচ্ছে’ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য যাদের দেশের বাইরে যাওয়ার আশু প্রয়োজন তাঁদেরকেও জামিন দেওয়ার বিরোধিতা করা হচ্ছে। আমি এ ধরনের অমানবিক আচরণ পরিহার করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘হামলা-মামলা ও অত্যাচার-উৎপীড়নে পর্যুদস্ত করে বিএনপির মতো একটি দলের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে স্থবির করে দিয়ে ক্ষমতাসীনরা উল্লাস প্রকাশ করছে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারাকে এভাবে স্তব্ধ করে দিয়ে কেউ কখনো সুফল পায়নি। আমি ইতিহাস থেকে সেই শিক্ষা গ্রহণের জন্য ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আহ্বান জানাচ্ছি রাজনৈতিক সহাবস্থান ও সুস্থ স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ অবিলম্বে ফিরিয়ে আনার।’

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *