নিউজ ডেস্ক: বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমদকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এখনই কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। সরকারের তরফ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব, ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাদের কারো কাছে এই ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়ার জন্য না দেওয়ায় তারা এখনও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে না। কয়দিনের মধ্যে করবে সেটাও বলতে পারছে না। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সালাউদ্দিন আহমদকে ফিরিয়ে আনতে হলে আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই সেটা করতে হবে। তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে সেখানে গেছেন। সেখানকার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার ব্যাপারে মামলাও হয়েছে। এই মামলায় ওই দেশের আদালত একটি দিক নির্দেশনা দিবে। সেই নির্দেশনা দেখা হবে। মামলায় আদালত কি নির্দেশনা দেয় তা না দেখে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রক্রিয়াগত ভুল কিংবা জটিলতাও তৈরি হতে পারে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সালাউদ্দিনের বিষয়ে কিছুই জানে না। তারা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছেন। তারা অপেক্ষা করছেন ভারত সরকারের তরফ থেকে বিশেষ করে তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে বাংলাদেশকে কোন তথ্য জানানো হয় কিনা। নাকি তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে কোন তথ্য দিবে। সেই জন্য অপেক্ষা করছেন। ভারত সরকারের পদক্ষেপ দেখার পরও এই ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করবে।
স্ব^রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, তাকে ফেরত আনার জন্য বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা আছে। এই ব্যাপারে আইনী ঝামেলাও রয়েছে। তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে সেখানে গিয়েছেন। সেটা যাওয়ার কারণে সেখানে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এই মামলার বিচারও হয়তো শুরু হবে। কিন্তু কবে শুরু হবে। কবে ওই মামলা আদালতে উঠবে সেটা আমরা জানি না। ভারত থেকে আমাদেরকে কোন কিছুই জানানো হয়নি। তারা জানালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে। তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। আমরা এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবো।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মনে করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিবে। কিন্তু খোঁহ নিয়ে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে এখনও কোন উদ্যোগ নেয়নি। তাদের কাছেও ভারত সরকারের তরফ থেকে কোন বার্তা আসেনি। সেটা না আসায় তারা এখনই কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এই ব্যাপারে পররাষ্ট্র সচিব মো: শহিদুল হক বলেন, সালাউদ্দিন আহমেদ ভারতের মেঘালয়ে আছেন বলে গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি। ওই খবর দেখলেও আমরা এখনও এই ধরনের কোন খবর ভারতের তরফ থেকে জানতে পারিনি। তিনি বলেন, আমরা এখনও পর্যন্ত এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানি না। সেই জন্য কোন উদ্যোগ নিচ্ছি না।
আপনারা ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনকে কোন নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা কিংবা সত্যতা যাচাই করার জন্য খবর নিতে বলেছেন কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশ হাইকমিশনকে কোন নির্দেশনা দেইনি। তারা এখনই এই ব্যাপারে কোন কাজ করবে না। আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার কি সিদ্ধান্ত নিবে সেই হিসাবে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
বাংলাদেশের কোন নাগরিক কোন দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হলে তাকে ফিরিয়ে আনার নিয়ম কি এই ব্যাপারে জানতে চাইলে মো: শহিদুল হক বলেন, এর নিয়ম হচেছ আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেটা সহজ নয়। কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে গৃহীত ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রয়েজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের কাছে পাঠাবে। আমরা সেটা কনস্যুলার অফিসে পাঠাবো। কনস্যুলার অফিসের মাধ্যমে এটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তারা ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিবেন। তবে আদালতে আপাতত আমাদের করনীয় কিছু নেই।
কবে নাগাদ সেটা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আমরা শুরুতেই উদ্যোগ নিব না। এটা উদ্যোগ নিবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। এর আগে আমাদের করনীয় তেমন কিছু নেই।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার পর সেখানকার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, আমরা এখনও তার দেশে ফেরার ব্যাপারে কোন প্রক্রিয়া শুরু করিনি। এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে। তার বিরুদ্ধে দেশে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। ওই সব মামলায় তার অবস্থা কি সেটাও পর্যালোচনা করতে হবে। তিনি ওয়ান্টেড আসামি । পুলিশ তাকে পেলেই গ্রেপ্তার করবে। এই জন্য ঠিক তার ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নিতে হবে সেটা ঠিক করতে হবে। তবে এখনই তার ব্যাপারে ভারতের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ফেরত চাওয়া হচ্ছে না। এই জন্য আইনী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই সেটা হবে। তাছাড়াও তিনি ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে সেখানে আটক হয়েছেন, মামলা হয়েছে, সেটা চলমান অবস্থায় ভারতের আদালত তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিবে কিনা নাকি ওই দেশের আইনেই তার বিচার করবে, আইন অনুযায়ী শাস্তি দিবে সেটা দেখতে হবে। সব কিছু মিলিয়ে সরকার আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিবে না। আইনী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সময় ও সুযোগ এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে দেশে ফেরানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নিবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর দেশে ফিরিয়ে আনার পর তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করবে। এই ব্যাপারে পুলিশের মহাপরির্দশক সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নিয়ে রাখতে বলেছেন।
বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, সরকার সহযোগিতা করলে ও উদ্যোগ নিলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে। তবে তারা এখনও কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় এটা বিলম্বিত হতে পারে।
সৌজন্য….আমাদের সময়.কম
সালাহ উদ্দিনকে ফিরিয়ে আনতে এখনই উদ্যোগ নিচ্ছে না সরকার
যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন।



Leave a Reply