বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পুরস্কারে শনাক্তকৃতদের ধরতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ

Pohela_boishakh_198794515-400x232পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী লাঞ্চনার ঘটনায় আটজনকে শনাক্ত করা হলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই যুবকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী নয় বলে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাদা পোশাকে পুলিশ তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি নিয়ে সাধারণ মানুষকেও আহবান জানানো হয়েছে তাদের ধরিয়ে দিতে। আর ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরষ্কারের ঘোষণাও দিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিডিও ফুটেজে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে তারা কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। এরা রাজধানীর কোন এলাকার বাসিন্দা। তবে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর এরা নিজেদের চেহারা বদলে গা ঢাকা দিয়ে আছে। ডিএমপির সকল থানা পুলিশকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা ছবি দেখে শনাক্ত করবেন। শিগগিরই পুলিশের হাতে এই যুবকেরা ধরা পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। পত্রিকা নিয়ে একে অপরকে ছবি দেখিয়ে নারীদের লাঞ্চনাকারিদের ধরতে তারাও কাজ করছেন। সোমবার টিএসসি এলাকায় এমন অন্তত ৭/৮ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশের পাশাপাশি তারা উত্যক্তকারিদের শনাক্ত করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। রাসেল নামের এক শিক্ষার্থী জানান, এদের ধরতে পারলে তাদেরই ক্রেডিট। এছাড়া ঢাবি এলাকার ঘটনা হওয়ায় তাদের ওপরও দায়ভার পড়ে। তাই তারা নিজেদের উদ্যোগেই এ কাজে নেমেছেন বলে জানান রাসেল।

এদিকে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী মাহবুব, সুমন ও পলাশ জানান, রোববার টেলিভিশনে সংবাদ দেখার পরপরই অনেকেই নিজেদের মোবাইলে অনলাইন থেকে ছবি ডাউনলোড করেছেন। পরে একে অপরকে ছবি শেয়ার করে নিপীড়কদের চিহ্নিত করতে কাজ করছেন। পুরষ্কার কোন বিষয় নয় উল্লেখ করে মাহবুব বলেন, এটা আমাদের একটা প্রেসটিজ। আমাদের বোনেরা পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে টিএসসিতে যাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের এমন হীন কাজের শাস্তি হওয়া দরকার। এটা শুধু ছাত্র হিসেবে নয় একজন মানুষ হিসেবেও এসব উত্যক্তকারিদের ধরিয়ে দেয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

শুধু শিক্ষার্থী নয় রাজধানীর অনেক ক্ষুদে ব্যবসায়ীদেরও এ ব্যপারে আগ্রহ দেখা গেছে। পল্টন এলাকার পান দোকানি বাবুল মিয়া একটা জাতীয় পত্রিকা হাতে নিয়ে তার দোকানে আসা ক্রেতাদের চেহারা ভাল করে খেয়াল করার পর পান সিগারেট বিক্রি করতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে বাবুল মিয়া বলেন, ‘অগোরে রাম ধোলাই দেওন দরকার। পত্রিকা দেখিয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে ধরা খাইলে রেহাই পাইবোনা। ধইরা পুলিশে দিমু। কেন একাজ করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার ছোট মেয়েকে নিয়ে তিনি টিএসসি এলাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু কোন অঘটন না ঘটলেও টিভিতে খবর দেখে তার মনে হয়েছে এদের শাস্তি হওয়া দরকার। তাই পান সিগারেট বিক্রির ফাঁকে পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি নিয়ে অপরিচিত লোকদের সঙ্গে মেলানোর কাজ করছেন।

উল্লে­খ্য, গত ১৪ এপ্রিল পহেরা বৈশাখের উৎসবের সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে এক দল যুবক নারীদের ওপর চড়াও হয়। তাতে বাঁধা দিতে গিয়ে আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দীসহ কয়েকজন।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *