মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকার রাস্তায় তরুণীকে গাড়িতে তুলে গণধর্ষণ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় গাড়িতে তুলে একজন যুবতীকে গণধর্ষণ করেছে পাঁচ যুবক। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় বিমানবন্দরের কাছে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় রাস্তায় এই ঘটনার পর শুক্রবার ভাটারা থানায় মামলা করেছে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পরিবার।

২১ বছর বয়সী ওই গারো আদিবাসী তরুণী যমুনা ফিউচার পার্কের একটি পোশাকের দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসাবে কাজ করেন। বড় বোনের সঙ্গে উত্তরায় থাকেন খালার বাসায়। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়ায়। মেয়েটি ময়মনসিংহের একটি কলেজে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন। তারা জাতিতে গারো; তবে খ্রিস্টান ধর্ম পালন করেন।

বর্ষবরণের উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের মধ্যেই দলবেঁধে ধর্ষণের এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটল।

imagesরাতে ধর্ষণের ঘটনার পর মামলার করার জন্য তাদের তিন থানায় ঘুরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়ে বলেও জানান তিনি।  তুরাগ থানা কাছে হয় বলে মামলা করার জন্য রাত চারটার দিকে মেয়েটিকে নিয়ে তারা সেখানে যান। কিন্তু অন্য এলাকার ঘটনা বলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। এরপর ভোর ৫টার দিকে তারা যান গুলশান থানায়। সেখানেও একই উত্তর মেলে। শেষে সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারা থানায় গেলে বলা হয়, ওসি নেই, অপেক্ষা করতে হবে। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওসি আসেন এবং তাদের কথা শুনে সাড়ে ১২টার দিকে মামলা নথিভুক্ত করা হয় বলে মেয়েটির বড় বোন জানান।

ভাটারা থানার পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শনিবার সকালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। সাজ্জাদ জানান, মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হলেও কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।’

মেয়েটির বড় বোন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার জন্য যমুনা ফিউচার পার্কের উল্টো দিকে বাসের অপেক্ষা করছিলেন তার ছোট বোন। এ সময় হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস এসে ওর সামনে থামে এবং দুই যুবক ওকে জোর ধরে গাড়িতে তোলে। ভেতরে আরও তিনজন ছিল। তারা পাঁচজন মিলে চলন্ত গাড়িতে ওকে ধর্ষণ করে রাত পৌনে ১১টার দিকে উত্তরার জসিমউদ্দীন রোডে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। বড় বোন জানান, মাইক্রোবাসটি চালানো হচ্ছিল ধীর গতিতে। কুড়িল বিশ্বরোড ও যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের এলাকা দিয়েই গাড়িটি কয়েকবার ঘুরেছে। তখনও ওরা গাড়ির ভেতরে আমার বোনকে ধর্ষণ করছিল।

তিনি জানান, গত সপ্তাহের শুরুতে এক লোক দুই বিদেশি নারীকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের ওই দোকানে যান, যেখানে তার ছোট বোন কাজ করেন। আমার বোন কোথায় থাকে, কত বেতন পায়, পরিবারে কে কে আছে জানতে চেয়েছিল তারা। ও বলেছে, মাইক্রোবাসে পাঁচজনের মধ্যে সেই লোকও ছিল। দোকানের সিসিটিভির ফুটেজ দেখলে তাকে ও চিনতে পারবে বলে মনে হয়।

ঢাকায় বর্ষবরণের উৎসবে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা সমালোচনার মুখে পড়ার পর দেড় মাস না পেরোতেই ধর্ষণের এই ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *