রাজধানীতে মাইক্রোবাসে তুলে গারো তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনার ছয় দিনের মাথায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- আশরাফ ওরফে তুষার ও গাড়ি চালক লাভলু।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ হাসান জানান, মঙ্গলবার রাতে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারাই ধর্ষণের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। মেয়েটিকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়ার পর তারাও ধর্ষণে অংশ নেয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
র্যাবের উপ পরিচালক রুম্মান মাহমুদ জানান, লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয় মঙ্গলবার রাতে, ঢাকার গুলশান-১ এলাকা থেকে। আর তুষারকে ধরা হয়েছে পটুয়াখালী কলাপাড়া থেকে।
যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী ২১ বছর বয়সী এই তরুণী গত বৃহস্পতিবার রাতে কুড়িলে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন একদল যুবক তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণ করে।
পরদিন ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে নিয়ে ভাটারা থানায় মামলা করে তার পরিবার। এজাহারে বলা হয় চলন্ত মাইক্রোবাসে পাঁচজন মিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার ধর্ষণের প্রমাণ মেলে।
র্যাব জানিয়েছে, গাড়িটি নিয়ে তুষার ও তার সহযোগী কয়েকবার কুড়িল ফ্লাইওভারে ওঠানামা করে। চলন্ত গাড়িতেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়।
মেয়েটির স্বজনেরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চলন্ত গাড়িতে অস্ত্রের মুখে মেয়েটিকে ধর্ষণের সময় একজনের ফোন বেজে ওঠে। তখন আরেকজন বলে, ‘তুষার তোর ফোন’। সেই থেকে মেয়েটির বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে তুষার নামের সেই লোকটিকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে মেয়েটি ভাটারা থানায় যে মামলা করেছেন, এতে সন্দেহভাজন বা আসামি হিসেবে তুষার বা অন্য কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় অজ্ঞাতনামা পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
ওই ঘটনার পর মামলা নিতে অবহেলার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পাঁচ মানবাধিকার সংগঠনের রিট আবেদনে হাই কোর্ট তিনটি রুল জারি করে।
মামলা নিতে বিলম্ব কেন ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করা হবে না, অবহেলার জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং ধর্ষিতাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম



Leave a Reply