এমন আকাঙ্ক্ষা হয়না এমন মানুষ বিশেষত মেয়ে মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। সুন্দর হওয়ার এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই আমরা স্নো পাউডার সহ রাজ্যের সব প্রসাধন কিনি। আপুরা হয়তো তাহলে বলবেন- তাহলে কি আমরা সাজবো না? আমি নিজেও সাঁজতে ভালোবাসি, কিন্তু সেটা নিজের ভালোলাগার জন্যই। অন্য মানুষ আমাকে দেখে অনেক সুন্দরী মনে করবে এটা ভেবে সাঁজাটাই আমার কাছে একধরণের মানসিক দাসত্ব মনে হয়। আসলে, মানুষের বাহ্যিক রূপটা একটা মোড়কের মতোই।
প্যাকেট যতো সুন্দরই হোক না কেন, আমরা কিন্তু কোন পণ্যের প্যাকেটই খাইনা। বেশী হলে ভবিষ্যতে মাছ মাংস রাখার মতো কোন তুচ্ছ কাগজে লাগতেও পারে, এই ভেবে হয়তো রাখি। কিন্তু বেশীরভাগ প্যাকেট এরই এই ভাগ্য ও হয়না। আমরা কিন্তু দাম দেই সেই জিনিষটারই যেটা প্যাকেটের ভেতরে থাকে। মানুষের অন্তরাত্মা হোল প্যাকেটের ভেতরের আসল বস্তুটির মতোই। দূর থেকে দেখে বোঝা যায় না ওতে কি আছে, কিন্তু কাজের সময় পরিচয় মেলে। মনে করুন, কোন বস্তুর ডেট ওভার হয়ে গেছে। কিন্তু প্যাকেট দেখে কিন্তু আপনার বোঝার কোন উপায় নেই।
ধরুন, বিক্রেতা ডেট অভারের সিলটা ও তুলে ফেলেছেন। আপনি মনের আনন্দে উপরের চাকচিক্য দেখেই মেয়াদহীন জিনিষ বাসায় নিয়ে আসলেন। মানুষের বাহ্যিকতা ও তাই। বাহ্যিকতা দেখে আপনি যখনই মানুষকে যাচাই করবেন, আপনি ঠকে যাবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই।
কিছুদিন আগের কথা। এক কালো মেয়ের বাসায় প্রস্তাব এসেছে একটা ছেলের জন্য। মেয়ের মা বললেন- আমার মেয়ে কিন্তু কালো! ছেলে পক্ষ বলল- সমস্যা নেই!তাও একবার দেখি। এরপর যথারীতি আয়োজন, পোলাও কোর্মা রন্ধন এবং সেই চিরচারিত নিয়মে মেয়ে পক্ষকে ফতুর করে দেওয়া। মেয়েটি ভালো বললে ভুল হয়, আসলে অসাধারণ। কিন্তু ঐ যে ৯৯% ভাগ ঠিক হলেও মেয়ে তো কালো! এরপর দেখাদেখির পর্ব শেষ হলে ছেলে পক্ষ জানালো- আরেকটু গায়ের রং পরিষ্কার হলেই আপনাদের মেয়েকে নিতাম!
হেল্থ ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply