বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

জয়কে অপহরণ ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তারেকের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে

images (3)লন্ডন প্রবাসী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা হচ্ছে। কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে এ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চিঠি চালাচালি চলছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রের খবর, গত ১৯ মে পুলিশ সদর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত এক পাতার একটি প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তাতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং তার ক্ষতি সাধনের নিমিত্তে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে অনুমোদন চাওয়া হয়। ২০ মে চিঠিটি গ্রহণ করে ‘অতি জরুরি, নথিতে দিন’ লিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তার পরিবারের সদস্যদের অপহরণ করে বড় ধরনের ক্ষতির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একজন এফবিআই এজেন্টকে ঘুষ প্রদানে জড়িত থাকার দায়ে বাংলাদেশীসহ দু’জনকে কারাদণ্ড দেয়। সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশীর নাম রিজভী আহমেদ সিজার (৩৬), যিনি যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাসাসের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের ছেলে। মার্কিন আদালতে সিজার স্বীকার করে যে, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে ২০১২ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পর্কে এফবিআই’র কাছে থাকা তথ্য পাচার করে দেয়ার জন্য এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট রবার্ট লাস্টিকের সঙ্গে তারা ৫ লাখ ডলারে চুক্তিবদ্ধ হন।

সূত্রের খবর, গত ৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে জয়কে অপহরণের ষড়যন্ত্রে বিএনপির হাইকমান্ড জড়িত দাবি করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা ওই ঘটনার বিচার দাবি করেন। এরপরই এ বিষয়ে ওঠে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে পুলিশ সদর দফতর, সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসসহ গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়। অনুসন্ধান শেষে গত ১৯ মে এ বিষয়ে তারেক রহমানকে দায়ী করে মামলার অনুমোদন চায় পুলিশ সদর দপ্তর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখন অনুমোদনের পর ঢাকার যেকোনো একটি থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে ইতিমধ্যে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৮টি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বিভিন্ন ঘটনায় ঢাকা, সিলেট, যশোর, নোয়াখালী, কক্সবাজার ও কিশোরগঞ্জে এসব মামলা হয়। এর মধ্যে সর্বশেষ মামলাটি হয় রাজধানীর গুলশান থানায় চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি। বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও নাগরিক ঐক্যের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার টেলি-সংলাপ ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাদের সঙ্গে তারেক রহমানকেও আসামি করা হয়।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহের ৮ মামলার মধ্যে রয়েছে- গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয়-এর আদালতে দায়েরকৃত দরখাস্ত মামলা নম্বর ১২৬/১৪; ২১ ডিসেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কিশোরগঞ্জের দরখাস্ত মামলা নম্বর ৫৭/১৪; চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার গুলশান থানার সাধারণ ডায়েরি নম্বর ১৬৮৮; ৬ জানুয়ারি কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নম্বর ৪ এ সিআর মামলা নম্বর ১৮/১৫; গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নম্বর ৩ নোয়াখালীর দরখাস্ত মামলা নম্বর ৬৬৬/১৪; ২৪ ডিসেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নম্বর ২ চরজব্বর, নোয়াখালীর দরখাস্ত মামলা নম্বর ৩৯১/১৪; ২২ ডিসেম্বর সিলেটের মেট্রোপলিটন তৃতীয় আদালতের দরখাস্ত মামলা নম্বর ৬৮/১৪ এবং গত বছরের ১৩ নভেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত কোতোয়ালি যশোরের মামলা নম্বর পি-৩৩৮/১৪।

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির মামলায় আটক তারেক রহমান পরের বছর চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে লন্ড যান। চিকিৎসা শেষে তারেক রহমান ফিরবেন-বিএনপি এমন ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত তার দেশে ফেরার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *