মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য পদ বাড়ছে ৫০০: নতুন কমিটি

image_53226_0_44866আগামী দুই বছরের (২০১৫-১৬) জন্য জাতীয় প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কমিটি গঠনের সাধারণ সভায় ক্লাব প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপন এবং বিগত কমিটির দুর্নীতি-অনিয়ম তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্লাবের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে সদস্য সংখ্যা এক হাজার থেকে দেড় হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাবও পাস হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় নতুন এই কমিটি গঠন করা হয় এবং সেখানে সদস্য বৃদ্ধিরও সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়।

১৭ সদস্যর কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থক সাংবাদিক ইউনিয়নের উভয় অংশের নেতা রয়েছেন। সভায়ও দুই পক্ষের একাংশের উপস্থিতি ছিল। সভায় গঠিত কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থক মুহাম্মদ শফিকুর রহমানকে, সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বিএনপি সমর্থক কামরুল ইসলাম চৌধুরীকে। কমিটিতে অন্যান্য পদে আরো রয়েছেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও বিএনপি সমর্থিত সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী। এছাড়া প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত ইলিয়াস খান এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আশরাফ আলী। কোষাধ্যক্ষর পদ পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কার্তিক চ্যাটার্জী।

মোট ১০ জনের সদস্য তালিকায় রয়েছেন- সিনিয়র সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবির, খন্দকার মনিরুল আলম, সরদার ফরিদ আহমদ, শামসুল হক দূররানী। এরা সবাই বিএনপি সমর্থিত।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সদস্যরা হলেন- আজিজুল ইসলাম ভূইয়া, মোল্লা জালাল, সাইফুল আলম, শ্যামল দত্ত, হাসান আরেফিন ও শামসুদ্দিন চারু।

কমিটিতে সভাপতিসহ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিক রয়েছেন ১০ জন। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ৭ জন রয়েছেন বিএনপি সমর্থিত সাংবাদিক। দুপুরে প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সভায় নতুন এই কমিটি ঘোষণা দেন বিএনপি সমর্থিত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু।

নির্বাচন নিয়ে জটিলতার মধ্যে বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে ডাকা সভায় ভোট ছাড়াই গঠিত হওয়া এ কমিটির গঠনের সভায় বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন না। সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই সাধারণ সভার কথা জানতেন না বলে অনেক সদস্য অভিযোগ করেছেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রবীণ সদস্য ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার এই সাধারণ সভায় ক্লাবের প্রায় এক হাজার সদস্যদের মধ্যে একশ জনও উপস্থিত ছিলেন না। তবে সভায় অনেকে ছিলেন, যারা প্রেস ক্লাবের সদস্য নন।

গত কয়েকদিন ধরে ক্লাবের নিবার্চন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যে ক্লাবের সাধারণ সদস্যদের উদ্যোগে এই সাধারণ সভা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে গত কয়েক বছর ধরে প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বে থাকা এই ব্যক্তিদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এক দিন আগেই তারা এক বিবৃতিতে প্রেসক্লাবে ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ আশঙ্কা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, এবার নির্বাচনের তফসিল হওয়ার পর সমঝোতার একটি প্যানেল দেওয়া হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশ এবং বিএনপি সমর্থকদের একটি অংশ আলাদা প্যানেল দেয়। পরে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ‘পরিবেশ নেই’ বলে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করলে নির্বাচন আটকে যায়।

 

সাধারণ সভায় আলোচনা:
সভায় আওয়ামী লীগ সমর্থক সাংবাদিকদের নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “কয়েক বছর ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাব একটি গোষ্ঠি ও রাজনৈতিক দলের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, এভাবে ক্লাব চলতে পারে না। “আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, আমরা দেশে স্বেচ্ছাচারিতা মানি নাই, জাতীয় প্রেস ক্লাবেও কোনো স্বেচ্ছাচারিতা আর মেনে নেওয়া হবে না।” মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করে ইকবাল সোবহান বলেন, “৩১ মার্চের পর থেকে এই কমিটির ক্লাব পরিচালনার কোনো আইনগত বৈধতা নেই। অতিরিক্ত সাধারণ সভায় ক্লাবের তাদের ৩১ মার্চের মধ্যে সাধারণ সভা ও নির্বাচনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তারা চেয়ার আঁকড়ে রেখেছেন। আমরা সাধারণ সদস্যরা এর জবাবে বলতে চাই, আপনারা অবৈধ, আপনারা আর ক্ষমতায় নেই। এরপরও যদি আপনারা ক্লাবের চেয়ার আঁকড়ে থাকেন, তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। সাধারণ সদস্যরা আপনারাদের মোকাবেলা করবে।” ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই সাধারণ সভা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আজকের সভায় যারা সমবেত হয়েছেন, তারা জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে অপশক্তির হাত থেকে মুক্তি করার সংগ্রাম শামিল হলেন।” সবার সমঝোতায় এই কমিটি গঠিত হয়েছে দাবি করে ইকবাল সোবহান বলেন, ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ফোরামকে সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতিসহ সাতটি পদ এবং জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত ফোরামকে সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ ১০টি পদ দেওয়া হয়েছে। ইকবাল সোবহান বলেন, “ক্লাবের অখণ্ডতা ধরে রাখতে আমরা এটা করেছিলাম। ঐক্যও হয়েছিল। কিন্তু একটি পর্যায়ে এসে একটি সহযোগী ফোরামের গোষ্ঠি ও রাজনৈতিক স্বার্থে ওই সমঝোতার ঐক্য ভেঙে দেওয়া হয়।”

সভায় বিএনপি সমর্থক সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা আমানুল্লাহ কবীর বলেন, “জাতীয় প্রেস ক্লাবকে ইউনিয়নের মতো বিভক্ত করে এর অখণ্ড ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করায় আজকের এই সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। যদি এক ব্যক্তি এই ক্লাবের দেখভাল না করত, এই সঙ্কট সৃষ্টি হত না বলে আমি মনে করি। আমরা সেজন্য সমঝোতার একটি প্যানেলের মাধ্যমে এই সঙ্কট থেকে উত্তরণ ঘটাতে চাই। কথা ছিল একটি সমঝোতা হবে। কার কারণে ওই সমঝোতা ভেঙেছে। সমঝোতা যারা ভেঙেছে তারা আজ এই সভায় আসেননি,” বলেন অবিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নের এই নেতা। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, দল-মত নির্বিশেষে ক্লাবকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। একে কোনো রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম বানানো যাবে না। এটা পেশাদার সাংবাদিকদের মানোন্নয়ন ও বিশ্রামের স্থান।”

ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মনিরুল আলম বলেন, “২০০২ সালে যে কমিটি বিজয়ী হয়ে আসে, তারাই একচেটিয়াভাবে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে দুই ফোরামের ভোটের ভারসাম্যহীন করে ফেলে। ফলে সৃষ্টি হয় সংকটের। আমরা এই ভারসাম্যহীনতার অবসান চাই।” বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ইউনিয়ন নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান মনিরুল আলম, যিনি বিএনপি সরকারের সময়ে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ছিলেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন সাহা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ। সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের সদস্য আশরাফ আলী। সভাপতির বক্তব্যে শাহজাহান মিয়া বলেন, “আজকের এই সভা ঐতিহাসিক একটি সভা। এটা জাতীয় প্রেস ক্লাবের ইতিহাস মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।”

বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *