বুলগেরিয়ায় গোলাপ চাষের ঐতিহ্য প্রায় তিনশো বছরের। চলতি মৌসুমে দেশটির নানাপ্রান্তে চলছে ফুল সংগ্রহের কাজ। কারণ এই ফুলের প্রক্রিয়াজাত তেল যাবে আন্তর্জাতিক বাজারে। যা থেকে তৈরি হবে সুগন্ধি। আর এ থেকে আয় হবে বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা।
দিগন্ত জোড়া গোলাপ বাগান। থোকায় থোকায় ফুটে আছে রঙিন ফুল। মন মাতানো এই দৃশ্য গোলাপ উদ্যান খ্যাত বুলগেরিয়ার গ্রাম জেলিনিকোভোর। গোলাপ তোলার মৌসুম চলছে তাই এসব বাগানে এখন কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার গ্রামীন মানুষের।
গোলাপের পাপাড়ি সংগ্রহের পর তা সরবরাহ করা হয় গ্রামের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা কারখানা গ্যালন এন রোজ ফ্যাক্টরিতে। যেখানে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় গোলাপের নির্যাস বা তেল। এই তেল থেকেই তৈরি হয় নানা রকম সুগন্ধি। এমনকি ক্রিম, সাবান থেকে শুরু করে কিছু খাদ্য পণ্যেও ব্যবহুত হয় এই তেল। তাই বিশ্বব্যাপী চাহিদা রয়েছে বুলগেরিয়ার জনপ্রিয় গোলাপ তেলের।
গ্যালন এন রোজ ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী নিকোলায় নেনকভ বলেন, ‘কৃত্রিমভাবে তৈরি সুগন্ধির চেয়ে গোলঅপের তেল থেকে তৈরি পণ্য বেশ স্বাস্থ্যসম্মত। তাই বিশ্বের সুগন্ধি আর কসমেটির পন্যের বাজারে বুলগেরিয়ার গোলাপ তেলের চাহিদা বেড়েই চলেছে।’
রসায়নবিদরা জানালেন, ১ কিলোগ্রাম তেল তৈরিতে প্রয়োজন হয় প্রায় ৪ হাজার গোলাপ পাপাড়ির। এই তেল রপ্তানি হয় জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আর তাই প্রতিবছরই রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গোলাপ চাষের পরিমান বাড়াচ্ছে বুলগেরিয়া।
গ্যালন এন রোজ ফ্যাক্টরির রসায়নবিদ বোঝান বোঝানভ বলেন, ‘প্রতিবছর প্রায় ৩০০ কিলোগ্রাম তেল রপ্তানি হয় আমাদের কারখানা থেকে। আর তাই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গোলাপের পাপড়ি সংগ্রহ করা হয়।’
গেল বছর গ্যালন এন রোজ ফ্যাক্টরি আন্তর্জাতিক বাজারে গোলাপ তেল রপ্তানি করে আয় করেছে প্রায় আট হাজার ডলার। আর এ বছর চাহিদা বাড়ায় এই আয় আরো বাড়বে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম ডেস্ক



Leave a Reply