মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

শান্তিতে নোবেল জয়ী কৈলাস সত্যার্থী ঢাকায়

Kailash-Dhaka-29-05-15বিশ্বব্যাপী শিক্ষার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ করছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী ভারতীয় ব্যক্তিত্ব কৈলাস সত্যার্থী। এই উদ্দেশ্য তিনি ঢাকায় এসেছেন। বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্যই হচ্ছে এ দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত মান নিশ্চিত ও সর্বস্তরে শিক্ষাকে ছড়িয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করা। শুক্রবার রাজধানী ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে গণমাধ্যমের বিশ্বের গণশিক্ষা ব্যবস্থা ও পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি কথা বলেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। ‘ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন (সিএএমপিই) উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী এবং কৈলাস সত্যার্থীর সহধর্মিণী সুমেথা সত্যার্থী উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষাই হচ্ছে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমন মন্তব্য করে কৈলাস সত্যার্থী বলেছেন, আজ বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু হচ্ছে মানব পাচার। সর্বস্তরে শিক্ষার প্রসার না হওয়া এবং যারা শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে তাদের গুণগত শিক্ষার অভাবই মানব পাচারের মত জঘন্যতম ও ভয়ানক সামাজিক ব্যাধির দিকে তাদের ঠেলে দিচ্ছে।

মানব পাচার প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন, সারা পৃথিবীজুড়ে এর ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। এর সঙ্গে বিরাট চক্র কাজ করছে। রাজনৈতিক নেতারাও এই জঘন্যতম ব্যাধির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। তারা সবাই মুনাফা করছে। আর অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে হতভাগ্য শিক্ষাবঞ্চিত কিছু মানুষকে। বর্তমান মানব পাচার পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত আশাহত ও দুঃখজনক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন।

কৈলাস বলেন, যদি সর্বস্তরে শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ হতো, তা হলে এসব মানুষ নিজেদের জীবন, স্বপ্ন না বাস্তবতা বুঝতে শিখত। লোভে পড়ে কিংবা অবৈধপথে গিয়ে এভাবে বিপদের মুখে পড়ত না। তিনি দাবি করেন, এর পাশাপাশি শিগগিরই এর থেকে পরিত্রাণ খুঁজে বের করতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট কমিয়ে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোই হতে পারে আগামী দিনের এ সমস্যা সমাধানের কার্যকর পন্থা। এছাড়া দেশেই ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও শ্রমের মজুরি বাড়ানোর পরামর্শ রাখেন তিনি। যাতে করে তারা দেশ ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমানোর মতো চেষ্টা থেকে বিরত থাকে।

শান্তিতে এ নোবেল বিজয়ী আরও বলেন, একটি বিপরীত শক্তি রয়েছে যারা সব সময় শিক্ষার বিপরীত স্রোতে থাকে। সবাইকে এর থেকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করে। এরা চরমপন্থা, মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছে। শিশু শিক্ষাটাকে শত্র“ মনে করে। কারণ মানুষ শিক্ষিত হলে এবং প্রকৃত শিক্ষা পেলে তাহলে ভবিষ্যতে তাদের আর ফাঁদে ফেলা যাবে না। এজন্য তারা শিশু শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরির পাশাপাশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ও গণশিক্ষা ব্যবস্থারও টুঁটি চেপে ধরার চেষ্টা করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *