এখন থেকে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ‘সেরা ২০ বা ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ হিসেবে কোনো তালিকা করা হবে না। বিদ্যমান বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) নিয়ে প্রশ্ন ওঠায়, এ ব্যাপারে আলোচনা করে এটি রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শনিবার মন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সৃষ্টির জন্য সৎ উদ্দেশে ‘সেরা ২০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ নির্বাচন চালু হয়েছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তালিকায় ওপরের দিকে থাকতে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক, অনৈতিক ও অসৎ পথ অবলম্বন করছে। তাই আজ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালে বিএনপি-জামায়াতের টানা অবরোধ-হরতালে পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ কমেছে—এমনটা দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফলাফলের কিছুটা খারাপের জন্য হরতাল-অবরোধের বিষয়টি বিবেচনায় এনেছি। শিক্ষার্থীদের অবরোধ-হরতালে অনিশ্চয়তা নিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
গত কয়েক বছর আগে থেকে জাতীয় পর্যায়ে বোর্ডগুলো আলাদা আলাদাভাবে সেরা ২০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করে আসছে। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে ফলাফলের ভিত্তিতে সেরা ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফলাফলে ভিত্তিতে বাছাই করা হতো। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, পাসের হার, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিসহ পাঁচটি সূচকে এসব প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হতো।
এদিকে এসএসসি ও এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষায় ফলের ভিত্তিতে সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘অসুস্থ’ প্রতিযোগিতা হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা। পরীক্ষার দিন সকালে শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষার আগেই ফল খারাপ করতে পারে এমন শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করতে না দেওয়ার ঘটনা এ কারণেই ঘটছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খানও এই প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন।
শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান এ বিষয়ে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনিও মনে করেন এভাবে সেরা প্রতিষ্ঠান বাছাই করা ঠিক হচ্ছে না। তিনি চান প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই ভালো করুক। সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাক।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম



Leave a Reply