ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল কাদেরকে নির্যাতন ও জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত খিলগাঁও থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ওসি হেলাল রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আলমগীর কবীরের আদালতে হাজির হয়ে জামিন চেয়েছিলেন। আদালত সেই আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
১৭ মে ওসি হেলালকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় আদালত তাঁকে পলাতক দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। ওসি হেলাল আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে তাঁর আইনজীবী সাইদুর রহমানের মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। পরে আদালত এ আদেশ দেন।
এদিকে পুলিশি নির্যাতনের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আব্দুল কাদেরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন খিলগাঁও থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন। দেওয়া হয়েছিল মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণের আশ্বাসও। কিন্তু কাদের রাজি হননি।
আব্দুল কাদের এই ব্যাপারে বলেছেন, ‘রায়ের আগের দিনও লক্ষ্মীপুরে আমার কর্মস্থলে এসে আমার সঙ্গে দেখা করে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওসি হেলালের কয়েকজন লোক। রায়ের দিনও প্রভাবশালীদের দিয়ে চাপ দেওয়া হতে পারে জেনে আমি আর আদালতে যাইনি। এ কারণে আপনারা আদালতে আমাকে দেখেননি।’
২০১১ সালের ১৫ জুলাই রাতে ইস্কাটন গার্ডেনের খালার বাসা থেকে ফজলুল হক মুসলিম হলে ফিরছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞানের ছাত্র আব্দুল কাদের। সেগুনবাগিচা এলাকায় গেলে তাঁকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাঁকে খিলগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন থানার ওসি হেলাল তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। তাঁর বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগ ও অস্ত্র আইনে দুইটি মামলা করা হয়। মোহাম্মদপুর থানায় হওয়া গাড়ি ছিনতাইয়ের মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করলে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে আইনসচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেন। তদন্তকালে ওসি হেলালসহ পুলিশের তিনজন কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশও দেওয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয় ও পুলিশের তদন্ত কমিটি কাদেরকে নির্দোষ উল্লেখ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেয়। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে ওসি হেলালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুপারিশ করা হয়। ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি খিলগাঁও থানায় ওসি হেলালের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply