মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

প্রেসক্লাবের নতুন সদস্য বাছাইয়ে কমিটি গঠন

press-club-viewবাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সদস্যপদ বাড়ানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি ছিল কর্মজীবী সাংবাদিকদের। এবার নির্বাচন ছাড়াই গঠন হওয়া কমিটি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তারা সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করেছে। নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির দু’দিনের বৈঠক শেষে রবিবার এ কথা জানানো হয়। এছাড়া প্রেসক্লাবের এতোদিনের ব্যবস্থাপনা কমিটির আর্থিক দুর্নীতি ও নানা ধরনের অনিয়মের তদন্তে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তিতে উপ-কমিটির প্রধান করা হয়েছে সহ-সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুলকে। এ কমিটির অপর সদস্যরা হলেন শ্যামল দত্ত, মোল্লা জালাল, সরদার ফরিদ আহমদ, যুগ্ম-সম্পাদক ইলিয়াস খান ও আশরাফ আলী। নতুন কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ‘যারা সদস্যপদ পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে সদস্য পদ প্রদান করা হবে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃতদের ব্যাপারে ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

নবনির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় ক্লাবের সদস্যদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, সদস্যপদ, শৃঙ্খলা, পরিবেশ পরিস্থিতি উন্নয়ন বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ক্লাব সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ৩০ ও ৩১ মে কমিটি রুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাবাকারে গৃহীত হয়েছে। সভার শুরুতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। এরপর সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন।

এছাড়া প্রেস ক্লাবের অনিয়ম, দুর্নীতি তদন্তে কোন যোগ্য অডিট ফার্মের মাধ্যমে অডিট করা হবে এবং অডিট রিপোর্টে কোন দুর্নীতি অনিয়ম চিহ্নিত হলে শ্বেতপত্র প্রকাশ করারও সিদ্ধান্ত হয়। আর্থিক তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে কোষাধ্যক্ষ শ্রী কার্তিক চাটার্জিকে। সদস্য হয়েছেন আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, দুই যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, আশরাফ আলী।

এদিকে প্রেসক্লাবের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও নতুন কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর বাইরে সার্বিক বিবেচনায় অপচয় রোধ করে খাবারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ১ জুন থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

রবিবার প্রেসক্লাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় উৎসব মুখর পরিবেশে সর্বসম্মতভাবে বর্তমান কমিটিকে নির্বাচিত করায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং একটি চিঠির মাধ্যমে সকল সদস্যের অবগতির জন্যে প্রেরণ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর পরপর জাতীয় প্রেস ক্লাবে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও গত ৩১ ডিসেম্বর কামাল উদ্দিন সবুজ ও সৈয়দ আবদাল নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা।

তফসিল হলেও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ‘পরিবেশ নেই’ বলে দায়িত্ব পালনে অপরাগতা জানালে ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর মধ্যে গত ২৮ মে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক সাংবাদিকদের উভয় পক্ষ একটি বৈঠক করে সমঝোতার কমিটি গঠন করে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সদস্যদের অনুপস্থিতে ওই বৈঠকে সভাপতি করা হয় আওয়ামী লীগ সমর্থক মুহাম্মদ শফিকুর রহমানকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় বিএনপি সমর্থক কামরুল ইসলাম চৌধুরীকে।

১৭ সদস্যের এই কমিটিতে ১০ জন রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ফোরাম থেকে, সাতজন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ফোরামের।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ নতুন কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগামী ২৭ জুন অতিরিক্ত সাধারণ সভা আহ্বান করেছে মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি। তবে এর মধ্যেই গত ৩০ মে নিজেরাই প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে নতুন কমিটি।

বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।
১৮৩০ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০১৫

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *