মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

প্রেসক্লাবে সম্পাদকের রুমের তালা ভাঙচুরের অভিযোগ

imagesবাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে শনিবার দিনভর উত্তেজনার পর গভীর রাতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের রুমের তালা ভেঙে নতুন তালা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় নয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরীসহ বেশ কিছু প্রেসক্লাবের সদস্য নয় এমন সাংবাদিক এবং বহিরাগতরা ছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে তালা মারলেও তারা সম্পাদকের রুম দখল করতে পারেননি বলে জানা যায়। ওই সময় সদস্যরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানা যায়। নির্বাচন ছাড়াই সমঝোতার মাধ্যমে গঠিত কমিটির নেতাদের পক্ষ থেকে এ কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটির সদস্যরা। তবে এই যুক্তি অস্বীকার করে নতুন কমিটির পক্ষাবলম্বনকারীরা বলেছেন, এটা মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটির সদস্যদের ভিত্তিহীন অভিযোগ।

এদিকে নির্বাচন আটকে যাওয়ার পর থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সমঝোতার কমিটি গঠনের পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। এর মধ্যেই ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের কক্ষের কাচঘেরা দরজার তালা ভাঙার চেষ্টা নিয়ে শনিবার দুই পক্ষের মধ্যে বাগ-বিতণ্ডা হয়। এই পরিস্থিতিতেই ১৭ সদস্যের নতুন এই কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দায়িত্ব গ্রহণের বৈঠক হয়। রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত বৈঠক মুলতবি করা হয়েছে। তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী পরে সাংবাদকিদের বলেন, “আমরা ক্লাবের দায়িত্ব নিয়েছি। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই।”

এর আগে শনিবার দুপুরেও ক্লাবের অফিসকর্মীরা সাধারণ সম্পাদকের কক্ষের তালা ভাঙার উদ্যোগ নেয়। তালাচাবিওয়ালারা জানালার গ্লাস খুলে ভেতরের লক খোলার সময় আলোকচিত্র সাংবাদিকরা সেখানে যায়। হৈ চৈ শুনে নতুন কমিটির সভাপতি শফিকুর রহমান দ্বিতীয় তলায় কমিটি কক্ষের বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি বলেন, “কে তোমাদের তালা খুলতে বলেছে? আমরা তো এই কক্ষ কাউকে খুলতে বলিনি।” তিনি তালাচাবিওয়ালাদের চলে যেতে বলেন। ঠিক ওই সময় সৈয়দ আবদাল তাদের বৈঠক থেকে বেরিয়ে সেখানে আসেন। তিনি উচ্চ কণ্ঠে বলতে থাকেন, “আমি সাধারণ সম্পাদক। আমার রুম কে খুলতে বলেছে? কে তালা ভাঙতে বলেছে?” এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য নুরুল হুদা, হাসান হাফিজ, নুরুল হাসান খানসহ ক্লাবের কয়েকজন স্থায়ী সদস্যও এর প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এরপর তারা অফিস কক্ষে গিয়ে ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিকের কাছে জানতে চান, এভাবে তালা ভাঙা হচ্ছে কেন?

হৈ চৈয়ের মধ্যে কমিটির কক্ষের পাশে সাংবাদিক লাউঞ্জে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগ সমর্থক ফোরামের সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। তারা ‘রাজাকার-জামায়াতের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে থাকে, যা নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়।এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। তখন ক্লাবের বিএনপি সমর্থক স্থায়ী সদস্যরা শফিকুর রহমানের কাছে গিয়ে দাবি জানান, বহিরাগতদের বের করে দিতে হবে। তখন শফিকুর রহমান নিজের ফোরামের সদস্যদের নিচে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানাতে থাকেন। নতুন কমিটির সদস্য বিএনপি সমর্থক সাংবাদিক নেতা আমানুল্লাহ কবীরও কমিটি কক্ষের বাইরে এসে তখন পরিস্থিতি শান্ত করতে ভূমিকা রাখেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ নতুন কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি শনিবার বলেন, “ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান কমিটি (তাদের কমিটি) নির্বাচিত আরেকটি কমিটির কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারে, এর বাইরে পারে না। ক্লাবের কোনো দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন হয়নি, সেহেতু দায়িত্ব দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তথাকথিত কমিটি কোনো বৈধ কমিটি নয়।”আগামী ২৭ জুন ক্লাবের অতিরিক্ত সাধারণ সভা ডাকার কথা জানিয়ে আবদাল বলেন, ওই সভায়ই ক্লাবের সদস্যরাই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *