বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশিকে বাংলাদেশে চাকরির কড়াকড়ি

jobs-BDকাজের অনুমোদনবিহীন (ওয়ার্ক পারমিট) কোন বিদেশি নাগরিককে কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়ার উপর কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। কোনো কোম্পানিতে এ ধরনের অবৈধ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রদেয় করের অর্ধেক জরিমানা গুনতে হবে। আগামী বাজেটে এমন ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দেশে এমন অনেক কোম্পানি রয়েছে, যারা বছরে কয়েক কোটি এমনটি কয়েকশ কোটি টাকাও বার্ষিক আয়কর দেয়।

দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার অবৈধ বিদেশি কাজ করে মোটা অংকের বেতন-ভাতা নিলেও তারা করের আওতায় নেই। আবার তাদের একটি অংশের নানা অপকর্মে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। এবার এসব ব্যক্তিকে বৈধভাবে কাজ করা বা দেশ ছাড়তে বাধ্য করতে বাজেটে এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশাল অঙ্কের জরিমানার ভয়ে কোন কোম্পানি অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ দিতে চাইবে না। ফলে আইনগত সুযোগ থাকলে ওই নাগরিক ওয়ার্ক পারমিট নিবে, অন্যথায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হবে।

বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হলে বিনিয়োগ বোর্ড থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হয়। বিনিয়োগ বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, বৈধভাবে কাজ করে এমন বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ১২ হাজারের কিছু বেশি। এর বাইরে বেপজা (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা) কর্তৃপক্ষ ও এনজিও ব্যুরোরও নিজ নিজ খাতে অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেপজা’র অনুমোদিত সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার আর এনজিও ব্যুরোর অনুমোদিত বিদেশি নাগরিক প্রায় ৫শ। বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশে কাজ করে এমন বিদেশি নাগরিককে তাদের যে কোন পরিমাণ আয়ের উপর ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। একটানা তিন মাস বাংলাদেশে থাকলে বা এক বছরে ১৮০ দিন এ দেশে থাকলে তারা আয়করের আওতায় পড়বেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কর ফাঁকি দেয়ার জন্য হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যম পর্যায় বা শীর্ষ পদে চাকরি করছে। বছরে এক একজন বিদেশি নাগরিক গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকা আয় করলেও তারা কোন কর দিচ্ছে না। বরং অবৈধ পথে এসব টাকা নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছে। সাধারণত ব্যবসা সংক্রান্ত কাজ, পর্যটক, বেসরকারি সংস্থাসহ নানা উপায়ে বাংলাদেশে এসে আর ফেরত যায় না। বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রে অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা ২ লাখ বলা হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে প্রকৃত তথ্য নেই।

বিনিয়োগ বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ভারত, চীন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, ডেনমার্ক ও স্পেনের কর্মীরা শিল্প এবং বাণিজ্যিক খাতে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের জন্য ভিসা নিয়ে বিদেশি এসব নাগরিক এদেশে এলেও মেয়াদ শেষে তাদের বড় অংশই নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে না। নতুন করে ভিসার জন্য আবেদনও করছে না। আবার ঠিকানা পরিবর্তন করায় এসব বিদেশিকে খুঁজেও পাচ্ছে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্প, বায়িং হাউস, আইটি ও টেলিকম খাত, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, রেস্টুরেন্ট, এনজিওসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে এসব বিদেশিরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।
০১১৫ ঘণ্টা, জুন ০১, ২০১৫

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *