মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের ওপর চীনের প্রভাব কমানোর চিন্তা মোদির

china-bangladeshএক বছর আগে ক্ষমতা নেয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই তিনি প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান এবং মিয়ানমার সফর করেছেন। আগামী ৬ জুন দুই দিনের এক কাঙ্ক্ষিত সফরে ঢাকা আসছেন তিনি। সফরে নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন ও পানি বণ্টন চুক্তিতে গুরুত্ব দেবেন। এটি মোদীর দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব কমানোর প্রচেষ্টারও অংশ। যদিও বাংলাদেশ সামরিক সরঞ্জামের জন্য সম্ভবত বেইজিংয়ের ওপরই নির্ভরশীল থাকবে। সম্প্রতি রয়টার্সের এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, চীনের সঙ্গে কয়েক দশক ধরেই অস্বস্তিকর সম্পর্ক বিরাজ করছে ভারতের। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে বেইজিংয়ের সামরিক সহযোগিতার সম্পর্কই অস্বস্তিকর সম্পর্কের কারণ। এছাড়া ভারত মহাসাগরে চীনের তথাকথিত ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ (চীনের সামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনার নেটওয়ার্ক এবং সাগরে কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগপথ) নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের বন্দর উন্নয়নে তহবিল দিচ্ছে চীন।

সম্প্রতি দুই দেশের স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি ভারতের পার্লামেন্টে অনুমোদন পেয়েছে। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বিরোধিতা থেকে সরে আসতেও প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছেন মোদি। সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতের একজন কর্মকর্তা বলেন, স্থলসীমান্ত চুক্তির মতো বিতর্কিত কিছু ইস্যুগুলো আমাদের কয়েক বছর আগে করা উচিত ছিল।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন বিশেষজ্ঞ শ্রীকান্ত কোনডাপাল্লি বলেন, চীন দক্ষিণ এশিয়ায় তার কূটনীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এটাই ভারতের উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) পক্ষ থেকে যতবার ভারত সফর করা হয়, প্রায় ততবার বাংলাদেশ সফরও করা হয়। মোদী এটার পাল্টা জবাব দেয়ার চেষ্টা করছেন।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য বলছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কেনা অস্ত্রের ৮২ শতাংশই ছিল চীনের। এর মাধ্যমে চীনের কাছ থেকে শীর্ষ তিনটি অস্ত্র ক্রয়কারী দেশের একটি হয় বাংলাদেশ। এছাড়া ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ও অন্যান্য অস্ত্র কিনেছে।

বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা শাহেদুল আনাম খান বলেন, ঢাকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময় বাংলাদেশের বড় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ হয়ে ওঠে চীন।
ভারতের আরেকটি উদ্বেগের কারণ হলো, চীন হয়তো যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন মোতায়েনের জন্য বাংলাদেশের জলসীমাকে আদর্শ জায়গা বলে মনে করছে। কারণ, বঙ্গোপসাগর উপকূল বাংলাদেশ ভাগাভাগি করে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে। যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সম্পর্কের বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। তারা এ সহযোগিতা স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে করে।

বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডিবিড ডট কম।
০১০৫ ঘণ্টা, জুন ১, ২০১৫

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *