মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

অনুমতিহীন কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে না: নীতিমালা প্রকাশ

admi-largeএসএসসি ফল প্রকাশের দুদিনের মাথায় জারি করা হয়েছে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির নীতিমালা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার বিকালে এই নীতিমালা জারি করে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তির আবেদন নেয়া শুরু হবে ৬ জুন। আর শেষ হবে ১৮ জুন। তবে যারা ফল চ্যালেঞ্জ করে বোর্ডে আবেদন করছে, তারা ২১ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে।

নীতিমালায় দেশের প্রাথমিক অনুমতিবিহীন কলেজে এবং অনুমতিপ্রাপ্ত কলেজের অবৈধ শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রত্যেক কলেজকে সরকারি এই বিধিমালা মেনে চলতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বোর্ড নির্ধারিত ফির বেশি নেয়া যাবে না। যে প্রতিষ্ঠান এই নীতিমালা লংঘন করবে, সেই প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, অনুমতি, এমপিও বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

প্রতি বছর ভুইফোঁড় বিভিন্ন কলেজ বোর্ডের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। এসব শিক্ষার্থীর অনেকে বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন পায় না। এ ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়ে। অপরদিকে গেল কয়েক বছর ধরে নটর ডেম কলেজ সরকারি নীতিমালা লংঘন করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এবারের নীতিমালায় অবশ্য তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে বাড়তি কিছু সুবিধা দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নটর ডেমের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য ভর্তিতে ১০ ভাগ বাড়তি সুবিধা দেয়া হয়েছে। তবে এরপরও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সরকারি নীতিমালা মানবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আসফাকুস সালেহীন বলেন, আমরা আশা করব সবাই সরকারি বিধিবিধান মেনে চলবেন। সরকারি বিধান লংঘন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার মধ্যে কৃতিত্ব নেই। এটা দায়িত্বশীল কারও কাছে কাম্য নয়।

নতুন নীতিমালা : নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও এসএসসির ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আবেদন গ্রহণ শেষে ভর্তির জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ জুন। ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই। বিলম্ব ফি ছাড়া ৩০ জুন পর্যন্ত ভর্তি হওয়া যাবে। আর বিলম্ব ফি দিয়ে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বাইরে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে উত্তীর্ণরাও একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হতে পারবে।

আগের মতোই টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে এসএমএসে ভর্তির আবেদন করা যাবে। তবে অনলাইনে ৫টি পর্যন্ত কলেজ পছন্দ ঠিক করে আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে টেলিটক মোবাইল থেকে এসএমএস করে ১৫০ টাকা জমা দিতে হবে। আর এসএমএসে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১২০ টাকা দিয়ে আবেদন করা যাবে।

বোর্ড প্রত্যেক কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তির তালিকা ঠিক করে দেবে। এই তালিকা অনুযায়ী ভর্তির পর আসন শূন্য থাকলে দ্বিতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই দুই তালিকার বাইরে কোনো ভর্তি করা যাবে না। আর ৩০০ শিক্ষার্থীর আসন কম রয়েছে এমন কলেজ এই কার্যক্রমে না আসলেও হবে। তবে আসলেও তাদের গ্রহণ করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেশন চার্জসহ সর্বসাকল্যে এক হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি ফি নেয়া যাবে না। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৫ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এমপিওবহির্ভূত শিক্ষকদেও বেতনভাতা দেয়ার জন্য ভর্তির সময় মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফি বাবদ বাংলা মাধ্যমে ৯ হাজার টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। অনুমোদিত ফি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, রোভার/রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বার্ষিক ক্রীড়া খাতে ফি নেয়া যাবে। অনিয়মিতরা তিন খাতে সর্বোচ্চ ১৭৫ টাকা বিলম্ব ফি দেবেন।

কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনুমোদিত ফির বেশি নেয়া যাবে না। অতিরিক্ত ফি নিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কলেজ চাইলে তাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারবে। প্রত্যন্ত/অনগ্রসর অঞ্চলের সহশিক্ষার কলেজে ছাত্রীদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। কারিগরি শিক্ষায় ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তিতে ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং জিপিএর ভিত্তিতে বাকি ৫০ নম্বরের আলোকে মেধাক্রম নির্ধারণ করতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, সাতটি বিভাগীয় সদরের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের ৯০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ আসনের মধ্যে ৩ শতাংশ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সদরের বাইরের এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্ত দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

বিভাগীয় শহর ছাড়া জেলা শহরের কলেজেও ৯০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে বলা হয়েছে নীতিমালায়। বাকি ১০ শতাংশ বিভাগীয় সদরের কলেজের মতো একইভাবে পূরণ করা হবে।
বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণরা যে কোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণরা মানবিকের পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হতে পারবে। ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা ব্যবসা শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে পারবে।

জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদেও ক্ষেত্রে সব বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৪৮ গ্রেড পয়েন্ট ধরে জিপিএর ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান জিপিএ প্রাপ্তদের মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত জিপিএ বিবেচনায় আনা হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান জিপিএ প্রাপ্তদের ভর্তির ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় অর্জিত গ্রেড পয়েন্ট বিবেচনা করা হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট গ্রেড পয়েন্ট একই হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে অর্জিত পয়েন্ট বিবেচনায় আনতে হবে। স্কুল ও কলেজ সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *