মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের সরকারি ১৩ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

US-Visa-System-for-Bangladeshবাংলাদেশের প্রশাসনের একেবারে শীর্ষ পদের কাছাকাছি থাকা তেরজন সরকারি কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে এই ১৩ জন অতিরিক্ত সচিবকে ভিসা দেওয়া হয়নি। অফিসিয়াল পাসপোর্ট ও সরকারি আদেশ থাকা সত্বেও ভিসা না পাওয়ার কারণ অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

তারা সরকারি আদেশ নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতেই যুক্তরাষ্ট্র যেতেন। তবুও তাদের ভিসা না পাওয়ার বিষয়টিতে প্রশাসনে তোলপাড় তৈরি হয়েছে। সবমিলিয়ে ৪৭ জন অতিরিক্ত সচিবের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ভিসা পেতে সক্ষম হওয়ায় ৩৪ জন যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষের চেয়ে কর্মকর্তারাই বেশি বিব্রত হয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘স্ট্রেংদিং গভর্নমেন্ট থ্রো ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অব দ্য বিসিএস ক্যাডার অফিসিয়ালস’- প্রকল্পের অর্থায়নে প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে তারা যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা ছিল। গত ৫ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্ল্যানিং সেল থেকে ৪৭ জন অতিরিক্ত সচিবের যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার বিষয়ে একটি সরকারি আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে বলা হয়, জাপানের জেডিসিএফ ফান্ডের অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিসিআইডি) ও স্যানফোর্ড স্কুল অব পাবলিক পলিসি, ডিউক ইউনিভার্সিটিতে পেশাগত উন্নয়নে বিভিন্ন ট্রেনিং ও শিক্ষামূলক প্রোগ্রামে অংশ নেবেন।

ভিসা পাননি যারা তারা হলেন: প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইব্রাহীম হোসেন খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুজ্জামান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সরদার আবুল কালাম, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আকরাম হুসেইন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য এসএম শওকত আলী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সিরাজুল হক খান, বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের সদস্য একেএম শহিদুর রহমান, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুধাংশু শেখর বিশ্বাস, জাতীয় মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাহানারা পারভীন, গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক একেএম নেছার উদ্দিন ভূঁইয়া, ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খোরশেদ আলম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান ও ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শেখ আব্দুল মান্নান।

ভিসা পেয়েছেন এমন অতিরিক্ত সচিবরা হলেন: এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. নূরুন নবী তালুকদার, মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান পিউস কস্তা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ আলী নাসিম খলিকুজ্জামান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. জহিরুল হক, জাতীয় ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক আবুল হোসেন মিয়া, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক মাফরুহা সুলতানা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা বেগম, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও সার্টিফিকেট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এএমএম আজহার, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. কায়কোবাদ হোসেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সুলতান উল ইসলাম চৌধুরী, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান অপরূপ চৌধুরী, পরিসংখ্যান বিভাগের একটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. এমদাদুল হক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা, ওএসডি অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মনীন্দ্রনাথ রায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহার আহমদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রওনক জাহান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী রওশন আক্তার, মাহমুদা শারমীন বেনু, শাওলী সুমন ও উন্মুল হাছনা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক সুব্রত রায় মৈত্র, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি এসিসট্যান্ট সেন্টারের মহাপরিচালক মো. আবদুল মতিন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক কাজী আখতার উদ্দিন আহমদ, দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমদ, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মুসলিম চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য ড. মো. নূরুন্নবী মৃধা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে সক্ষম হয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *