বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বেশিরভাগই অর্জিত হয়নি

5year-planচলতি অর্থবছরে (২০১৪-১৫) শেষ হচ্ছে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ। এতে ‘ভিশন ২০২১’ সামনে রেখে বেশকিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর মধ্যে কয়েকটি ছাড়া বেশির ভাগ লক্ষ্যই অর্জন হয়নি। আর মধ্যমেয়াদে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সংশোধন না করায় বর্তমানে এটি অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) মূল্যায়নে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

১ জুন রাজধানী ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘স্টেট অব দ্য বাংলাদেশ ইকোনমি ইন ফিসক্যাল ইয়ার ২০১৫ অ্যান্ড দ্য ক্লোজার অব দ্য সিক্সথ ফাইভ ইয়ার প্ল্যান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিপিডি। এতে বলা হয়, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল, কিন্তু সর্বশেষ হিসাবে তা দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। পাঁচ বছরে গড়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হলেও বাস্তবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ অর্জন সম্ভব হয়েছে। শিল্প, সেবা ও কৃষি কোনো খাতই লক্ষ্য অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, আমদানি, রফতানি সব খাতই লক্ষ্যের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজস্ব আহরণ, উন্নয়ন বাজেট, বেসরকারি ঋণপ্রবাহ সব খাতই লক্ষ্যমাত্রার পেছনে রয়েছে। চলতি বছরও রাজস্ব আহরণে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকতে পারে। অবকাঠামো খাতে লক্ষ্য অনুযায়ী বিনিয়োগ হয়নি। সরকারি ব্যয়ও ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে।

এতে আরো বলা হয়, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্যে দারিদ্র্য নিরসন, প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার, বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণ প্রভৃতি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। আর মাথাপিছু বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, প্রকৃত আয়বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধী টিকা দান সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল তৈরি, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট সেবা সম্প্রসারণ ইত্যাদি খাতে অগ্রগতি হলেও তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক পিছিয়ে।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার হার বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যুর হার কমানোসহ ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বেশকিছু লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জনের চিত্র আরো বেশি দুর্বল। আগামী অর্থবছরের বাজেটের মাধ্যমে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার যাত্রা হতে যাচ্ছে। এটি বাস্তবায়নে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে শিক্ষা নেয়া যেতে পারে বলেও মন্তব্য করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ২০০৯ সালে অর্থনীতিতে যে গতি শুরু হয়েছিল, ২০১২ সালের পর তা আবার কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ঘাটতি অনেক বেড়ে গেছে। আর্থিক পরিকল্পনায় গুণগত মান কমে গেছে। ফলে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অনেক বিষয় বাস্তবায়ন হয়নি।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবারের বাজেটে পরিকল্পনা নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, উচ্চবিলাসী চিন্তা বাদ দিয়ে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিরাষ্ট্রীয়করণ করতে হবে। রাজস্ব বাড়াতে সম্পদের ওপর কর আরোপের বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি প্রণয়ন ও উত্তরাধিকারী সম্পদে কর নির্ধারণ করতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, বর্তমানে অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় পরিবেশের অভাবে তা সম্ভাবনা অনুযায়ী বিকাশ লাভ করতে পারছে না। তাই এবারের বাজেটে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। করের আওতায় নতুন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আনতে হবে। এজন্য সম্পদের কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের ওপর করারোপ করা উচিত। এতে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ভারতের সঙ্গে সামগ্রিক ট্রানজিট ও বিনিয়োগ চুক্তি হওয়া উচিত ছিল। বর্তমানে একেক সংস্থা একেকটি চুক্তি বিচ্ছিন্নভাবে করছে। তাই ভারতের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের জন্য আরো স্মার্ট হতে হবে। পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। তা না হলে ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি হচ্ছে, তার সুফল নাও মিলতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে শোনা যাচ্ছে, ট্রানজিট মাশুল দিতে হবে তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য গেলে। কিন্তু ভারতের এক অংশ থেকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে অন্য অংশে পণ্য গেলে মাশুল দিতে হবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। কারণ আমাদের রাস্তাঘাট, বন্দর জনগণের ভর্তুকির টাকা দিয়ে নির্মিত। এ ভতুর্কির সুবিধা অন্য দেশের নাগরিকদের দেবে কিনা, তাও ভেবে দেখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। এ সময় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, পরিচালক (ডায়ালগ ও কমিউনিকেশন) আনিসাতুল ফাতিমা ইউসূফসহ সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *