ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ঘোষণা নিয়ে বিবিসি বাংলা কয়েকটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করা শুরু করেছে। এর মধ্যে বুধবার ৩ জুন ঢাকা অফিসের ফারহানা পারভীনের দুইটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। ‘নতুন জীবনের প্রস্তুতি ছিটমহলের মানুষের’ এবং ‘অনিশ্চয়তায় দিন কাটে তিস্তা পারের কৃষকের’ প্রতিবেদন দু’টিতে আশা ও হতাশা দুইই ফুটে উঠেছে।
ছিটমহলের প্রতিবেদনে মূলত কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়া ছিটমহল ও বড়গাঁওচুলকা ছিটমহলে গিয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত সীমান্ত চুক্তি বিল পাশ হওয়ার পর এক নতুন জীবনে প্রবেশ করেছে ছিটমহলের বাসিন্দারা। ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সাথে থাকায়, ছিটমহলের বেশিরভাগ বাসিন্দা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকতে চান। এখন তারা অপেক্ষা করছেন দেশটির নাগরিক সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার। আবার ছিটমহলের অনেক বাসিন্দা ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে চলে যেতে চান, চলছে তাদেরও প্রস্তুতি।
ছিটমহলের প্রতিবেদনটিতে নতুন কিছু না থাকলেও তিস্তা নিয়ে প্রতিবেদন মোদির সফরের আগে চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের এটি নতুন ভাবনা যুগিয়েছে বলে নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমের কাছে জানান পশ্চিববঙ্গের শিলিগুড়ির একজন সাংবাদিক।
ফারহানা পারভীনের প্রতিবেদনে অবশ্য তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্ভাবনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কোনো আশার বাণী নেই। যৌথ নদী কমিশনের বাংলাদেশের সদস্যও শুধু বলেন, ‘এখন চলছে চূড়ান্ত কাজ’। কি যে সেই চূড়ান্ত কাজ তা না বলে তিনি জানান, সমতা ও নায্যতার ভিত্তিতে পানি বণ্টন চুক্তি হবে। অবশ্য নায্যতায় কে কত হিস্যা পাবে তার এখনো সুরাহা না হওয়ায় যৌথ নদী কমিশনের সদস্য কোনো হিসাবও বিবিসিকে জানাতে পারেননি।
একটি কথা না বললেই নয়, বিবিসি বাংলার মতো প্রতিষ্ঠানে যখন কারও নাম ভুল হয়; তখন তা বড়ই দৃষ্টিকটূ দেখায়। যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মীর সাজ্জাদ হোসেনকে আমরা মীর সাজ্জাদ হোসেন নামেই বেশ কয়েক বছর ধরেই জানি। কিন্তু ফারহানা পারভীনের প্রতিবেদনে তাকে ‘মির সাজ্জাদ আলি’ লেখা হয়েছে। এটি নিশ্চয়ই ফারহানা পারভীনের চূড়ান্ত ভুল নয়! সম্পাদনা বিভাগ আরও একটু সতর্ক হয়ে নিউজ আপলোড করবে- বিবিসির কাছে এটা আশা করাই যায়।
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।
২০৩০ ঘণ্টা, জুন ৩, ২০১৫



Leave a Reply