বিশেষ প্রতিনিধি॥ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার ৬ জুন দুইদিনের সরকারি সফরে ঢাকা আসবেন। মোদির ঢাকা সফরসূচি চূড়ান্ত হয়েছে। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মিলে বাংলাদেশ সফরকালে মোদির এই সফরের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করেন। সফরসূচি অনুযায়ী শনিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিশেষ বিমানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন মোদি।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকবেন। বিমানবন্দরে ভিভিআইপি টারমাকে মোদিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। এরপর বিমানবন্দরে উপস্থিত বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ, তিন বাহিনীর কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন মোদি।
হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ জুন ১১টা ১৫ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মোদিকে স্বাগত জানাবেন গৃহায়ণ ও পূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একেএম মোজাম্মেল হক ও স্থানীয় সাংসদ। এসময় সেখানে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল ওযাকের-উজ-জামান উপস্থিত থাকবেন।
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নরেন্দ্র মোদি এক মিনিট নিরবতা পালন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও মন্তব্য খাতায় অনুভূতি ব্যক্ত করবেন। এ ছাড়া সেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বৃক্ষ রোপন করবেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে মোদি শনিবার ১২টা ১৫ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধ থেকে ধানমন্ডিতে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরের উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন। ধানমণ্ডিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানাবেন।
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর থেকে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে নরেন্দ্র মোদি বিশ্রামের হোটেল সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন। কিছু সময় বিশ্রামের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে হোটেল সোনারগাঁওয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ১৫ মিনিটের সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে ৬ জুন বিকেল চারটায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত হবেন। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানাবেন। এ সময় তাদের মধ্যে একান্তে ৩০ মিনিট কথা বলবেন। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে দুই প্রধানমন্ত্রী স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সম্মতিপত্রে অণুস্বাক্ষর করবেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে ৫টা ১০মিনিট পর্যন্ত শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি চা-চক্রে মুখোমুখি হবেন। এ সময় নরেন্দ্র মোদি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য দুইটি অমূল্য উপহার শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিবেন। একটি হচ্ছে, ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্র“য়ারি ভারতের কলকাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণের একটি সিডি। আরেকটি হচ্ছে, বহু প্রতিক্ষীত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ভারতীয় সংসদে পাস হওয়া এবং ভারতের সংবিধানের সংশোধন করা প্রমাণপত্রের টান্সক্রিপট। অন্যদিকে, সেখানে নরেন্দ্র মোদির সম্মানে ‘সাইনিং ইন্সট্রমেন্ট অব সারেন্ডার ১৯৭১’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ৫টা ১৫ মিনিটে দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক বিষয়ে প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নিবেন নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা। এরপর যৌথ ইশতেহারে স্বাক্ষর করবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। যৌথ ইশতেহারে স্বাক্ষরের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সন্ধ্যায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে ফিরবেন মোদি। হোটেল সোনারগাঁওয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি বিশ্রাম নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। গ্রান্ড বলরুমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলবে।
সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ৮টায় পুরাতন ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরের উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন। সেখানে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন তাকে স্বাগত জানাবেন। ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনের পর তিনি যাবেন পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের রামকৃষ্ণ মন্দির ও মঠ পরিদর্শনে। সেখানের কর্মসূচি শেষে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নরেন্দ্র মোদি বারিধারায় ভারতীয় নতুন চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করবেন। সেখান থেকে সকাল ১১টায় বিশ্রামের উদ্দেশে ফিরবেন হোটেল সোনারগাঁওয়ে।
রবিবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য নরেন্দ্র মোদি বঙ্গভবনে পৌছবেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাকে স্বাগত জানাবেন। বঙ্গভবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ১৫ মিনিট সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। এরপর বঙ্গভবনের দরবার হলে দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত একটি অনুষ্ঠান হবে।
বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীর পক্ষে বাংলাদেশের দেওয়া মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা গ্রহণ করবেন মোদি। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। এরপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গভবন থেকে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ফিরবেন তিনি।
বাংলাদেশ সংসদের বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ দুপুর ৩টা ২০ মিনিটের জন্য নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে হোটেল সোনারগাঁওয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। এরপর সেখানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাত করবেন।
রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের জন্য বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন নরেন্দ্র মোদি। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের আয়োজনের ওই অনুষ্ঠানে দেশের সুশীল সমাজ সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের সম্মানিত নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ওই অনুষ্ঠান শেষে সরাসরি চলে যাবেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। রাত ৮টা ২০ মিনিটে বিশেষ বিমানে চড়ে নয়াদিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে তাকে বিদায় শুভেচ্ছা জানাবেন।
বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply