বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

দামী পাজেরো চুরি করেন পাউবোর দুই কর্মকর্তা

 

Water-Boardরাষ্ট্রপতির সাবেক সিনিয়র সচিবকে বরাদ্দ দেয়ার কথা বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ক্যাপিটেল ড্রেজিং (পাইলট) প্রকল্পের একটি বিলাসবহুল জিপ গাড়ির আত্মসাতের ঘটনা ফাঁস হয়েছে। সচিবের পিএসের স্বাক্ষর জাল করে সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও উপ-পরিচালক (ডিপিডি) গাড়িটি আত্মসাৎ করেছিলেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে দীর্ঘ ১৫ মাস পর গাড়িটি ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন সাবেক পিডি। বাজার দর অনুযায়ী গাড়িটির বর্তমান মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের একজন প্রকৌশলী।

এ ঘটনায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক অতিরিক্ত মহাপরিচালকের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাউবোর মহাপরিচালক (ডিজি) ইসমাইল হোসেন বুধবার টেলিফোনে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এখনও পাইনি। তাই এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

এছাড়া প্রকল্পের সাবেক ডিপিডি গাজি মো. আলতাফুজ্জামান বুধবার টেলিফোনে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সচিবে পিএস’র স্বাক্ষর জাল করে গাড়িটি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।’ কে আত্মসাতের চেষ্টা করেছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা এখন না বলি।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সাবেক সিনিয়র সচিব শেখ আলতাফ আলীর পিএস মো. শওকত আলীর সিল-স্বাক্ষর জাল করে ১৫ মাস ধরে গাড়িটি গোপন রাখা হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে প্রকল্পটির বর্তমান পিডি ও একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। টেলিফোন ও চিঠির মাধ্যমে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে ৮ মে রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন প্রকল্প পরিচালক কেএম হুমায়ুন কবির। মন্ত্রণালয়সহ পাউবোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়। এর একদিন পরই গাড়িটি কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেন সাবেক প্রকল্প পরিচালক একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন। ওই সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত যুবক।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গাড়ি হস্তান্তরসংক্রান্ত জাল রশিদে রাষ্ট্রপতির তৎকালীন সচিবের পিএস মো. শওকত আলী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালীন মহা-পরিচালক (ডিজি) আজিজুল হক ও প্রকল্প পরিচালক একেএম মোয়াজ্জেম হোসেনের স্বাক্ষর ছিল। পিএসের স্বাক্ষরটি ছিল জাল।

সূত্র জানায়, দরপত্রে দেয়া শর্ত অনুযায়ী কাজ পরিদর্শনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (সিএইচইসি) বিভিন্ন মানের একাধিক নতুন গাড়ি এবং ৪টি স্পিড দেয়ার কথা। স্বাক্ষর ও সিল জাল করে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সিনিয়র সচিবের নামে দেয়া এ গাড়ি তারই একটি। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অধীনে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিংয়ের কাজ করছিল চায়নার এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১০ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২২ কোটি টাকা।

যেভাবে ঘটনা ফাঁস : অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির ক্যাপিটেল (পাইলট) ড্রেজিং অব রিভার সিস্টেম ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের তৃতীয় পিডি হিসেবে যোগদান করেন। প্রকল্পের এ কার্যালয়টি গ্রীন রোডে অবস্থিত। নতুন পিডি যোগ দেয়ার পর দফতরের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানতে পারেন, প্রকল্পের আওতায় সম্পাদিত ২য় বছর ড্রেজিং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের চুক্তি অনুযায়ী আরও একটি গাড়ি সরবরাহ নেয়া বাকি আছে। পরে প্রকল্পের সাবেক উপ-প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী মো. আলতাফুজ্জামানের কাছে বিষয়টি জানতে চান হুমায়ুন কবির। ওই সময় গাজী আলতাফুজ্জামান নতুন পিডি হুমায়ুন কবিরকে জানান, জিপ গাড়িটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির (সিএইচইসি) কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেটি রাষ্ট্রপতির সিনিয়র সচিব আলতাফ আলীর (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ব্যবহারের জন্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দেয়া হয়েছে। পরে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে হস্তান্তরের একটি রশিদ এবং অফিসিয়াল রেকর্ডপত্রও বুঝিয়ে দেন গাজী আলতাফুজ্জামান। এতে দেখা যায়, উক্ত গাড়িটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন অবস্থায় (চেসিস নং-ভি৯৩ডব্লিউ-০৩০০২৭২, ইঞ্জন নং-৬জি৭২এক্সবি৩৬০৭) গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট সচিবের একান্ত সচিব মো. শওকত আলী গ্রহণ করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি রশিদও হস্তান্তর করা হয়। তাতে শতকত আলী গাড়িটি গ্রহণ করেছেন মর্মে সিল-স্বাক্ষর রয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র সচিব আলতাফ আলীও অবসরে যান। কিন্তু গাড়িটি প্রকল্পে ফিরে না আসায় সন্দেহ হয় নতুন পরিচালক হুমায়ুন কবিরের। পরবর্তীতে সচিবের পিএস শওকত আলীর স্বাক্ষরিত গাড়ি বুঝে নেয়ার রহস্যজনক রশিদের সূত্র ধরে গাড়িটির বর্তমান অবস্থা অবহিত করতে ৫ মে বঙ্গবভনে দাফতরিক চিঠি লিখেন হুমায়ুন কবির। প্রকল্প পরিচালকের এমন চিঠি ও তার স্বাক্ষরিত রশিদ দেখে যথারীতি হতবাক হয়ে পড়েন শতকত আলী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মে ওই চিঠির জবাবে শওকত আলী জানান, ‘আমি গত বছরের ৩ মার্চ রাষ্ট্রপতির সিনিয়র সচিবের একান্ত সচিব পদে যোগদান করি। অথচ পত্রে উল্লেখিত পাজেরো গাড়িটি গ্রহণ করা হয়েছে একই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি। গাড়ি বুঝে নেয়ার রশিদে দুঃখজনকভাবে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। নামের সঙ্গে যে স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে আমি কখনো এরকম স্বাক্ষর করি না। এ ছাড়া আমার নামের পরে যে সিল ব্যবহার করা হয়েছে এ কার্যালয়ে এ ধরনের সিল ব্যবহার করা হয় না। পরিশেষে শতকত আলী বলেন, ‘এমতাবস্থায়, আপনার সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমি উল্লেখিত গাড়িটি গ্রহণ করিনি এবং গাড়িটি বর্তমানে কোথায় কি অবস্থায় আছে তা জানা নেই।’

প্রাণনাশের হুমকি : ৫ মে প্রকল্পের বর্তমান পিডি হুমায়ুন কবির গাড়ির বিষয়ে বঙ্গভবনে একটি চিঠি লেখেন। আর ৬ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাংলালিংক মোবাইল ফোন (০১৯১১৯৫৫৭৮৪) থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি পিডি হুমায়ুন কবির ও একই প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল হোসেনকে গাড়িটির ব্যাপারে খোঁজ নিতে নিষেধ করেন। পরদিন ৭ মে বিকালে অপর আরেকটি মোবাইল (০১৯২২৮৮৪৭৪৭) নম্বর থেকে ফোন করে আগের দিনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার হুমকি দেয়া হয়। বলা হয়, নির্দেশনা না মানা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল হোসেন ও পিডি হুমায়ুন কবিরের পরিবারকে দেখে নেয়া হবে। একই দিন বিকালেই একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি পিডির রামপুরা বনশ্রীর বাসায় মিষ্টির প্যাকেটের সঙ্গে ইংরেজিতে টাইপ করা কাগজে লিখে একটি চিরকুট বাসার দারোয়ানের কাছে রেখে চলে যায়। হুমকি দেয়া ওই চিরকুট পেয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হুমায়ুন কবির ভয়ে তাৎক্ষণিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের

মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন মন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে তাদের নির্দেশ অনুযায়ী ৮ মে সাধারণ ডায়েরি করেন হুমায়ুন কবির। রামপুরা থানার জিডি নং ৩১৮। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার দফতরের একটি জিপ গাড়ি হদিস না থাকার পরিপ্রেক্ষিতে সেটির খোঁজখবর করায় এ ধরনের হুমকি আসছে বলে ধারণা করছি। এজাহারের সঙ্গে হুমকির ওই চিরকুটও সংযুক্ত করা হয়।

গাড়িটি যেভাবে ফেরত আসে : বর্তমান প্রকল্প পরিচালক কেএম হুমায়ুন কবির ১১ মে পানি উন্নয়ন বোর্ডে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ১০ মে বেলা ১১টায় প্রকল্পের সাবেক পরিচালক একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন অত্র দফতরে আসেন। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন যুবক গাড়িটি নিয়ে অত্র দফতরের সামনে উপস্থিত হয়। তখন হুমায়ুন কবির ব্র্যাক ইন সেন্টারে একটি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন মন্ত্রী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকও উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে ফোন করে গাড়িটি গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন। তাৎক্ষণিক তিনি মন্ত্রী ও মহাপরিচালককে অবহিত করলে দু’জনই গাড়িটি গ্রহণ করতে বলেন। পরে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মনিন্দ্র নাথ সরকারকে গাড়িটি গ্রহণ করতে বলেন এবং তাদের নাম-ঠিকানা রাখার নির্দেশনা দেন। আগত যুবকদের মধ্যে করিম নামে একজন গাড়িটি হস্তান্তর করেন। এ সময় করিমের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র চাওয়া হলে নিয়ে আসার কথা বলে গাড়িটির দুটি চাবির মধ্যে একটি চাবি রেখে দ্রুত কেটে পড়ে। বর্তমানে গাড়িটি গ্রিন রোডের দাপ্তরিক গ্যারেজে রাখা হয়েছে। সারসংক্ষেপের শেষাংশে হুমায়ুন কবির কর্তৃপক্ষকে জানান, ‘উল্লিখিত বর্ণনার আলোকে আমি ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল হোসেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিধানসহ প্রকল্পের অন্যান্য গাড়ি ব্যবহারে অনিয়মের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নথিটি উপস্থাপন করা হল।’

কে এই করিম : গাড়ি হস্তান্তরের সময় অজ্ঞাত যুবকদের একজন নিজেকে মো. করিম নামে পরিচয় দেয়। ১০ মে তার কাছ থেকেই গাড়িটি লিখিতভাবে বুঝে পায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। গাড়িটি ফেরত দেয়ার সময় একটি সাদা কাগজে শুধু তার এই নামটিই লিখেন। ঠিকানা দেন ৩৯ ধানমণ্ডি, ঢাকা। কাগজে তিনি লিখেন, ‘আমি মিতসুবিসি পাজেরো ২০১২ মডেলের চেসিস নং ভি৯৩ডব্লিউ-০৩০০২৭২ গাড়িটি ব্যবহার করে আসছিলাম। এখন আমি আপনাদের কাছে গাড়িটি যার রেজিস্ট্রেশন নং ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-৯০৩৪ হস্তান্তর করলাম।’ প্রকল্পের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মনিন্দ্র নাথ সরকার গাড়িটি বুঝে নেন। গাড়িটি ১৫৬৭০ (পনের হাজার ছয়শত সত্তর) কিলোমিটার চলেছে বলেও মনিন্দ্রনাথ উল্লেখ করেন। গাড়ি হস্তান্তরের সময় প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন।

সাবেক পিডি যা বললেন : এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের সাবেক পিডি একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সচিবকে গাড়ি দিয়েছিলাম। সচিবের পিএস শওকত আলী গাড়িটি গ্রহণ করেছেন। হস্তরশিদে তার এবং তৎকালীন মহাপরিচালক আজিজুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে। শওকত আলী স্বাক্ষর জাল করে গাড়িটি আত্মসাতের চেষ্টা করছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাক্ষর জালিয়াতি হবে কেন? সেটি শওকত আলীরই স্বাক্ষর। গাড়িটি ফেরত দেয়া হয়েছে।’ শওকত আলী স্বাক্ষর করেননি বলে তিনি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছে- এ প্রসঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’ এক পর্যায়ে বলেন, ‘গাড়িটি কি আমরা বিক্রি করে দিয়েছি নাকি? গাড়ি যে রিসিভ করা হয়েছে তার কপি রয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই বিষয়টি তদন্ত করছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব তাজুল ইসলাম এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সৈয়দ আহসান আলী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, পুরো বিষয়টি ঘটানো হয়েছে বিশ্বস্ততা ভঙ্গ করে। প্রকল্পের সাবেক পিডি একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মনিন্দ্র নাথ সরকার ২০১৪ সালেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গাড়িটি বুঝে নেয়ার সময় শুধু কাগজেই স্বাক্ষর করেছেন।

শর্ত অনুযায়ী যে মডেলের গাড়ি দেয়ার কথা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই অফিসে কাগজপত্র সংরক্ষণ করেছেন। এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন প্রকল্পের তৎকালীন উপ-পরিচালক গাজী মো. আলতাফুজ্জামান। বিষয়টি বিশ্বাস ভঙ্গ করে করা হয়েছে তা স্বীকার করেছেন সাবেক পিডি মোয়াজ্জেম হোসেন ও এসডিই মনিন্দ্র নাথ সরকার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালীন মহাপরিচালক আজিজুল হকের সঙ্গে মঙ্গলবার দুপুরে তার মোবাইল ফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মিটিংয়ে আছি। পরে ফোন করেন।’

বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *