সিলেটের নাসরিন। সিরাজগঞ্জের সাদ্দাম। মোবাইলে আলাপ, সেই থেকে প্রেম। মাঝে তিনবছর মেয়েটি ছিল আমেরিকায়। পড়ালেখা শেষ করে ৩ জুন বাংলাদেশে ফিরেই সিলেটে না গিয়ে নাসরিন চলে গেলেন সিরাজগঞ্জ। সেখানে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছে।
সিলেটের সম্ভ্রান্ত পরিবারের তরুণী হালিমা নাসরিন ও সিরাজগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের যুবক সাদ্দাম হোসেন। মোবাইল ফোনে রং নম্বরের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সিলেটে থাকাকালে পরিচয় হলেও বছর তিনেক আগে নার্সিংয়ের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে আমেরিকায় যান নাসরিন।
আধুনিক প্রযুক্তির এ যুগে মোবাইল ফোনের ট্যাঙ্গোতে হতো নিয়মিত যোগাযোগ। এক পর্যায়ে নাসরিনের পরিবারের সদস্যরা এ প্রেমের বিষয়টি জেনে যান। বাধ সাধেন তারা। কিন্তু তরুণী তার প্রেমের ব্যাপারে অটল। ওই যুবককেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এদিকে দীর্ঘ তিন বছর পর আমেরিকা থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে বুধবার ৩ জুন সকাল নয়টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন নাসরিন। আসেন প্রেমিক যুবক সাদ্দাম হোসেনও। নাসরিনের পরিবারের সদস্যরাও শাহজালালে এসে টের পান যে, তরুণী সিলেট যাচ্ছেন না, ওই যুবকের সঙ্গে যাবেন। আর তাই তাকে সিলেটে নিতে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সহায়তা চান পরিবারের সদস্যরা। এ অবস্থায় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সদস্যরা নাসরিনকে ডেকে নিয়ে আসেন কার্যালয়ে। কিছুক্ষণ পর নিয়ে আসা হয় ওই যুবককেও।
নাসরিনের ভাই হেলাল তাকে অনুরোধ করতে থাকেন তাদের সঙ্গে সিলেটে যেতে। কিন্তু অনড় বোন বলেন, আমি সাবালিকা। আমার সিদ্ধান্ত, আমি যাকে ভালবাসি, তাকে বিয়ে করবো। মেয়ের সিদ্ধান্ত ও পরিবারের অনুরোধে বিব্রতবোধ করতে থাকেন দায়িত্বরত এএসপি আসমা আরা জাহান। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। এরপর ওই তরুণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে প্রেমিকের সঙ্গে যেতে দেওয়ার পরামর্শ দেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরামর্শ পেয়ে কর্তব্যরত অফিসার প্রেমিক যুবকের সঙ্গে ওই তরুণীকে যেতে দেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply