বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে দাম বাড়ছে যেসব পণ্যের

Budget-2015-16বাংলাদেশের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকায় বৃহস্পতিবার দেশটির অর্থমন্ত্রী‌ আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তব্যে এই প্রস্তাবনা দিয়েছেন।

বাজেটে যে সব পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে:
গুঁড়া মরিচ, ধনিয়া, আদা, হলুদ ও মশলার প্রতি কেজিতে ট্যারিফ মূল্য ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, আচার ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, সব ধরনের বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতির ক্ষেত্রে ৫ টাকা; টয়লেট, ন্যাপকিন ও ফেসিয়াল টিস্যুতে ৫ টাকা বাড়োনোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিযুক্ত মোটরসাইকেল (সিকেডি) আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক হার ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে। সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূ্ল্যের ওপর ৩ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপ করা হয়েছে। এ কারণে সিগারেটের দাম বাড়তে পারে।

দুই স্ট্রোক ও চার স্ট্রোক বিশিষ্ট অটোরিকশার ইঞ্জিন আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।

বিদেশ থেকে আমদানি করা চার স্ট্রোক বিশিষ্ট মোটরসাইকেলের ওপর আমদানি শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

দেশী শিল্পের বিকাশে বিদেশী এলসিডি/এলইডি টেলিভিশনের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মানভেদে বিড়ি ও সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানভেদে সিগারেটের ওপর ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত করহার বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিড়ির ক্ষেত্রে ফিল্টার বিহীন ২৫ শলাকার প্যাকেটের ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ১৪ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৭ দশমিক ৬ টাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেট ৬ দশমিক ৯২ টাকা থেকে ৭ দশমিক ৯৮ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চা আমদানিতে প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট।

প্রস্তাবিত বাজেটে চামড়ার তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এ সংক্রান্ত পলিশ ও ক্রিমসহ অন্যান্য কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিদেশ থেকে আমদানি করা মোটরগাড়ির টায়ারের দাম বাড়তে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে টায়ারের ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।

রিভলবার ও পিস্তলের সম্পূরক শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সকল প্রকার ফ্যানে সমহারে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে স্বর্ণ ও রৌপ্যকার এবং স্বর্ণের ও রৌপ্যের দোকানদার, স্বর্ণ পাকাকারী প্রভৃতি সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ এবং যোগানদার সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ মূসক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে:
মানুষের খাওয়ার উপযোগী মাছের টুকরা বা গুড়া (আড়াই কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা টিনজাত) ১০ থেকে ২০ শতাংশ, শুকনা, লবণাক্ত বা লবণের দ্রবণে সংরক্ষিত কিন্তু ধুমায়িত নয় এমন কাটা ছাড়ানো মাছ (আড়াই কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা টিনজাত ব্যতীত) ১০ থেকে ২০ শতাংশ, অন্যান্য শুকনা মাছ (লবণাক্ত হোক বা না হোক) ধুমায়িত নয় (আড়াই কেজি পর্যন্ত মোড়ক টিনজাত ব্যতীত), হিমায়িত চিংড়ি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ, মাখন এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত চর্বি ও তেল, গেইরি স্প্রেডস ১৫ থেকে ২০ শাতাংশ, তাজা বা ঠান্ডা টমেটো ১৫ থেকে ২০ শতাংশ, সুপারি ৩ কেজি পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ, চা পাতা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *