বিশেষ প্রতিনিধি॥ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকালে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে সে দেশের ব্ল্যাকক্যাট কমান্ডো ও স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকার মাটি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই মোদীর চারপাশে অবস্থান নেবেন ব্ল্যাকক্যাট ও এসপিজির সদস্যরা। ৩৪ ঘন্টার ঢাকা সফরে মোদীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ভারতের চৌকষ এই দুটি সংস্থা। এছাড়া ঢাকার রাজপথে মোদী চলবেন ভারত থেকে আসা বিশেষ গাড়িতে। শুক্রবার এই গাড়ি এসেপৌঁছে ঢাকায়।
সূত্র জানায়, নরেন্দ্র মোদীর সফরের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ঢাকা। সফরসূচি অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। তার সফরকালে যাতে কোনো ধরনের বিশৃংখলা না ঘটে সেজন্য সব গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। ভেন্যুগুলোতে থাকবে বোমা নিষ্ট্রিয়কারী টিম। আশপাশে থাকবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ সদস্য। র্যাবের মোবাইল টিম ছাড়াও মোটর সাইকেলে থাকবে পেট্রল টিম। এছাড়া প্রস্তুত থাকবে র্যাবের হেলিকপ্টার।
মোদীর সফর উপলক্ষে স্মরণকালের সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ঢাকায়। বাংলাদেশের এসএসএফ, র্যাব, পুলিশ, সোয়াটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২ হাজার সদস্য মোদির নিরাপত্তায় ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল থেকেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রস্তুত ঢাকা।
সূত্র জানায়, শনিবার সকালে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে ঢাকায় আসবেন নরেন্দ্র মোদী। তার এই সফর উপলক্ষে গত দুই সপ্তাহ ধরে কাজ করছে আইন-শৃংখলা বাহিনীগুলো। সফরকালে নরেন্দ্র মোদী অবস্থান করবেন রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে। এর আগে ২০১১ সালে এই হোটেলে ছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
সূত্র জানায়, গত ১ জুন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা তদারকির জন্য বাংলাদেশে আসে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এলিট বাহিনী ব্ল্যাকক্যাট কমান্ডো ইউনিট। এ ইউনিটের সদস্যরা ভিভিআইপির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশের আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা এবং প্রটোকলের দায়িত্বে থাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশি¬ষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। সমন্বয়ের ভিত্তিতেই তারা কাজ করছেন বলে জানা গেছে। এর আগে ভারতের ব্ল্যাকক্যাট কমান্ডো বাহিনীর একটি অগ্রবর্তী টিম ঢাকায় আসে। এই দলটি নরেন্দ্র মোদী যেখানে থাকবেন হোটেল সোনারগাঁও এবং কর্মসূচি অনুযায়ী যেসব স্থানে যাবেন, সেসব এলাকা ঘুরে দেখেছেন। গতকাল ইউনিটের সদস্যরা সাভার যাওয়ার পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, ঢাকা সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে যাবেন সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। এছাড়া ঢাকেশ্বরী ও রামকৃষ্ণ মিশন মন্দির পরিদর্শনের কথা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সোনারগাঁও হোটেলের এই ১০ কিলোমিটার পথ নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গতকাল থেকেই। এছাড়া স্মৃতিসৌধে যাওয়ার সড়কপথ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মীদের রেডএলার্টে রাখা হয়েছে। সকালে মোদিকে বহনকারী বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। তাকে বহনকারী বিমান অবতরণের সময় বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে রাখা ভিডিও ক্যামেরায় চিত্র ধারণ করা হবে। তার গমনাগমনের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন যেন গাড়ি বহরে ঢুকতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখবে নিরাপত্তা কর্মীরা। তার গাড়ি বহরে প্রস্তুত থাকবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপনী গাড়ি। সচল রাখা হবে ফ্রিকোয়েন্স জ্যামার মেশিন। গতকাল শুক্রবার নরেন্দ্র মোদির জন্য ভারত থেকে এসে পৌঁছেছে বুলেট প্রুফ গাড়ি। এই গাড়ি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সফরকালে ব্যবহার করবেন।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্ণেল জিয়াউল আহ্সান বলেন, এই সফরকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। র্যাবের ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ বিশেষায়িত ইউনিটকে বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর যেসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করবে এর প্রতিটিকে বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (ক্রাইম) মীর রেজাউল করিম বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোদীর সফর উপলক্ষে রাজধানীর কোন এলাকার যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির একজন কর্মকর্তা বলেন, নির্দিষ্ট করে কোন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে না। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে সড়ক দিয়ে চলাচল করবেন সেখানে অল্প সময়ের জন্য যান চলাচলে একটু কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply