বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কানাডা যাওয়ার ছাড়পত্র না পেয়ে খেলা-চাকরি ছাড়ল শিরিন

Shirin-Sultana-Ansarবাংলাদেশ আনসারের সদস্য শিরিন সুলতানা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কানাডায় সিনিয়র কমনওয়েলথ রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে যাবেন। কুস্তি, উশু, রেসলিংয়ে নানা সময়ে নানা পদক পাওয়া শিরিন পেয়েছিলেন আনসার পদকও। কিন্তু কানাডায় যাওয়ার ছাড়পত্র না মেলায় ছেড়ে দিলেন আনসারের চাকরি। এখন খেলছেন না কিছুই; পাওয়া যাচ্ছে না তার হদিস।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পাহাড় অনন্তপুর গ্রামের মেয়ে শিরিন সুলতানা।

কুস্তি দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু তার। খেলেছেন তিন বছর। ভারতে খেলতেও গেছেন কুস্তি দলের হয়ে। পরের বছরেই কুস্তি ছেড়ে চলে যান উশুতে। সেখানে দেড় বছর খেলে কোরিয়ার ইনচনে যান এশিয়াডে খেলতে। সামনে উশুর কোনো বিদেশ সফর নেই। তাই ফের বিদেশ যেতে ফিরে আসলেন কুস্তিতে কানাডা সফরের জন্য। কিন্তু নিজ কর্মস্থল আনসার থেকে ছাড়পত্র পাওয়া গেল না। তাই শেষমেশ কর্মক্ষেত্র আনসারেই ইস্তফা চিঠি দিয়ে দিলেন শিরিন সুলতানা। যদিও শিরিনের সেই ইস্তফা চিঠি আজও গ্রহণ করেনি আনসার কর্তৃপক্ষ। তারপরও আনসারে আসছেন না শিরিন, খেলছেনও না উশু কিংবা কুস্তি।

২০১০ সালে জাতীয় জুনিয়র কুস্তিতে অংশ নিয়েই স্বর্ণপদক জেতেন। পরের বছরও একই ফল। আনসারে চাকরি করার সুবাদে চলে আসেন সিনিয়র রেহানা পারভীনের তত্ত্বাবধানে। ২০১২ সালে ভারতের কলকাতায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ইন্দো-বাংলাদেশ বাংলা রেসলিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে স্বর্ণ জেতেন শিরিন। একই বছর নয়াদিল্লিতে ফার্স্ট হরিরাম আন্তর্জাতিক গ্রাঁ প্রিঁতে অংশ নেন।

তবে ভারত পর্যন্ত আটকে থাকতে চাইলেন না তিনি। যদিও স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস কিংবা কোরিয়ার ইনচনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসেও অংশ নেয়নি বাংলাদেশের মহিলা কুস্তি। কিন্তু কুস্তি না থাকলেও এশিয়ান গেমসে উশু ডিসিপ্লিনে খেলবে বাংলাদেশ। এটা টের পেয়ে দেড় বছর আগেই কুস্তি ছেড়ে উশুতে যোগ দেন শিরিন। মাত্র ছয় মাসের অনুশীলনে ২০১৩ সালে জাতীয় উশু প্রতিযোগিতায় একটি মাত্র স্বর্ণপদক জিতেই ইনচন এশিয়ান গেমসের জন্য নির্বাচিত হয়ে যান। এ নিয়ে অবশ্য উশু অঙ্গনে কম হইচই হয়নি।

অবাক হলেও সত্যি যে, মাত্র দু’বছরের হাতে গোনা ক’টি স্বর্ণপদক জিতেই শিরিন পেয়ে গেছেন আনসার পদক। যেখানে এই পদকটি পেতে অনেককেই যুগের পর যুগ অপেক্ষা করতে হয়েছে। আনসারে নিয়মিত ভাতা পেলেও দুস্থ ক্রীড়াবিদদের সহায়তার জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকা বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনেও আবেদন করেছিলেন গুরু শিষ্য বলে খ্যাত রেহেনা পারভীন ও শিরিন সুলতানা। মজার বিষয় হলো তাদের পক্ষে দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) একজন সদস্য। ইনচন এশিয়াডে উশুতে ভালো না করতে পারলেও ফের বিদেশ যাওয়ার পাঁয়তারা করতে শুরু করেন শিরিন।

উশুর হয়ে কোরিয়া গেলেও এবার ফের কুস্তির হয়ে সিনিয়র কমনওয়েলথ রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে কানাডা যাওয়ার মতলব আটেন।

কুস্তি ফেডারেশনও শিরিনকে ছাড়পত্র দিতে ৯ এপ্রিল আনসারকে চিঠি দেয় (যার সূত্র নং- বিএডাব্লিউএফ/ইন্টার রেসলিং (কানাডা)/২০১৫)। হয়তো বা কানাডা গিয়ে শিরিনের ফেরত না আসার মতলব টের পেয়ে যায় আনসার। যার ফলে ছাড়পত্র দেয়নি এই সার্ভিসেস দলটি। এতে আনসার কর্তৃপক্ষের উপর প্রচণ্ড ক্ষেপে যান শিরিন। কানাডা যেতে না পেরে ক্ষিপ্ত শিরিন ২৮ এপ্রিল আনসার সদর দফতরে ইস্তফা পত্র দেন।

কুস্তি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন আজাদ বলেন, ‘আমরা শিরিন ও রেহেনার ছাড়পত্র চাইলেও আনসার দিতে রাজি হয়নি। তাই আমরা আর মহিলা কুস্তিগির পাঠাচ্ছি না। এবার পুরুষ দলকে পাঠাচ্ছি। সেই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর কুস্তিতে জায়গা দেয়া হবে না শিরিনকে।’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *