দুই দিনের সরকারি সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। মোদিকে বহন করা ভারতীয় বায়ু সেনার ‘রাজদূত’ নামের বিশেষ বিমানটি সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
উড়োজাহাজটির সামনে দুই পাশে উড়ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা। ভিভিআইপি টারমাকে দাঁড়ানোর পনের মিনিট পর উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসেন সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও ছাই রঙের ওয়েস্ট কোট পরা মোদি নেমে আসে। সিঁড়িতেই সবাইকে নমস্কার জানান তিনি। এ সময় নিচে লাল গালিচায় অপেক্ষা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোদি নেমে এলে তাকে অভ্যর্থনা জানান তিনি। একটি শিশু ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন শুভেচ্ছার ফুল।
লাল গালিচা সংবর্ধনার পর মোদীকে দেওয়া হয় গার্ড অফ অনার। দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সালাম নেন, এসময় বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত। নরেন্দ্র মোদি গার্ড পরিদর্শন করেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন বিমান বন্দরে। ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।
এর আগে সকাল ঢাকায় রওনা দেওয়ার প্রাক্কালে টুইটারে টুইট করেন মোদি। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে যাচ্ছি। এই সফর দুই জাতির বন্ধন সুদৃঢ় করবে, আমাদের দুই দেশ ও অঞ্চলের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে।’
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পথে সড়ক পথে রওনা হন মোদি। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।
সেখান থেকে তিনি যাবেন সোনারগাঁও হোটেলে, এই সফরে সেখানেই থাকবেন তিনি।
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে যাবেন নরেন্দ্র মোদী। সেখানে শীর্ষ বৈঠকে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে।
ছিটমহল বিনিময়ে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের দলিলও হস্তান্তর হবে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। এই সফরে তিস্তা চুক্তি যে হচ্ছে না। শীর্ষ বৈঠকে উপস্থিত থাকতে একদিন আগেই ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষ বৈঠকের পর রাতে সোনারগাঁও হোটেলে ফিরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে যোগ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
সফরের দ্বিতীয় দিন রোববারও ব্যস্ত সময় কাটাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন শেষে বারিধারায় ভারতীয় হাই কমিশনের নতুন চ্যান্সেরি ভবনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মোদী। সেখানে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার আগে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে অটল বিহারি বাজপাইর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্মাননা গ্রহণ করবেন বিজেপির এই নেতা।
এরপর হোটেলে ফিরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সাক্ষাৎ দেবেন মোদী।
রাতে ঢাকা ছাড়ার আগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভারতীয় হাই কমিশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন মোদী।
বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply