বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের স্থলসীমান্ত চুক্তি ও প্রটোকলের দলিল বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। ৬ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বিনিময় সম্পন্ন হয়। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই দলিল হস্তান্তর করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই চুক্তির দলিল স্বাক্ষর ও বিনিময় করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
এর ফলে স্থল-সীমানা ও ছিটমহল নিয়ে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের আনুষ্ঠানিক মীমাংসা হলো। ছিটমহল বিনিময় বাস্তবায়নের পথেও আর কোনো বাধা রইল না।
চুক্তির অধীনে বাংলাদেশের কাছে ভারত সর্বমোট ১৭ হাজার ১৬০ একর আয়তনের ১১১টি ছিটমহল হস্তান্তর করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারতের কাছে হস্তান্তর করবে ৫১টি ছিটমহল, যার আয়তন ৭ হাজার ১১০ একর। এসব ছিটমহলে ৫৫ হাজার অধিবাসী পরিচয় এবং রাষ্ট্রীয় অধিকার বঞ্চিত অবস্থায় রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত। মানুষেরা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।
দুই দেশের বিরোধপূর্ণ জমি হস্তান্তরের ফলে ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে পাবে ২ হাজার ৭৭৭.০৩৮ একর জমি এবং বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে পাবে ২ হাজার ২৬৭.৬৮২ একর জমি। চুক্তিটি বাস্তবায়নের ফলে দু’দেশের মধ্যে সাড়ে ৬ কিলোমিটার অচিহ্নিত সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
১৯৭৪ সালে স্থলসীমা বিষয়ক ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি ভারতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতায় এতদিন বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রথম দিনে এই চূড়ান্ত বাস্তবায়ন চুক্তি সম্পাদন প্রথম বড় সংবাদ হিসেবে এলো।
বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply