বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

২৩ বছরেই এতোকিছু নেইমারের!

neymar-champs-league-finalচ্যা​ম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে টানা সাত গোল করে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইতিহাসের পাতায় আলাদা একটা জায়গায় নাম লেখালেন। এই কীর্তি যে আর কারও নেই!

কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজির বিপক্ষে প্রথম লেগে করেছিলেন ১ গোল, ফিরতি লেগে দুটি। সেমিতে বায়ার্নকে বিধ্বস্ত করা ম্যাচে ফিরতি লেগে জোড়া গোল। প্রথম লেগেও গোলদাতার তালিকায় নাম লেখাতে ভোলেননি। কাল ফাইনালে কিছুতেই গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না। একটা গোল তো হয়েও হলো না হ্যান্ডবলের অপরাধে।

ম্যাচ প্রায় শেষ হয়ে যায় যায়। রেফারি মুখে বাঁশি নিয়েই দৌড়াচ্ছেন। শুধু খেলার গতির​ কারণে ফুরসত পাচ্ছেন না শেষ বাঁশি বাজানোর। সেই গতিতেই পাল্টা আক্রমণে বার্সা। যোগ করা সময়ে পেদ্রোকে বদলি হিসেবে নামিয়েছিলেন কোচ এনরিকে। যোগ করা সময়ে খেলোয়াড় নামানো মানে হলো কিছুটা সময় নষ্ট করা। এগিয়ে থাকা দলগুলো তা-ই করে, খুবই চেনা কৌশল।

কিন্তু কেন বার্সার বেঞ্চ বসে বসে গরম করে, ভালো প্রস্তাব থাকার পরও পেদ্রো অন্য ক্লাবে চলে গেলেন না, সেটাই যেন প্রমাণ করে দিলেন ওই ছোট্ট সময়টায়। মেসির থ্রু বল থেকে নেইমার, নেইমার থেকে পেদ্রো, পেদ্রো থেকে আবার নেইমার। এবার জিজি বুফোন আর পারলেন না। গোল! রেফারি গোলের বাঁশি বাজালেন নাকি খেলা শেষের—ঠিক বোঝা গেল না। নেইমারও যেন এর থোড়াই কেয়ার করছেন। অলিম্পিক স্টেডিয়াম বলে মাঠের চারপাশে দৌড়ানোর ট্র্যাক আছে বার্লিনে। কাল মনে হলো, ট্র্যাকটা বার্সার গোল উদযাপনের জন্যই বানানো!

নেইমার ততক্ষণে জার্সি খুলে ফেলেছেন। নাঙা-আদুল গায়ের লিকলিকে শরীরটা বেরিয়ে এসেছে। যে শরীর নিয়ে নেইমার ইউরোপের ফুটবলে সফল হবেন না—খোদ পেলের ভবিষ্যদ্বাণীটাও ততক্ষণে মিথ্যা প্রমাণ হয়ে গেছে।

প্রবল আনন্দের রেশ কেটে এলে কখনো কখনো কেন জানি কান্না পায়। নেইমার কাঁদছেন। হু হু করে। গত বিশ্বকাপ শুধু তাঁর শরীরে নয়, হৃদয়েও এক যন্ত্রণা দিয়ে গেছে। সেই স্মৃতি মনে পড়াতেই কাঁদছেন? তাঁর সামর্থ্য নিয়ে কত কত প্রশ্নের তির—নেইমার সে জন্য কাঁদছেন? না, মনে হলো, নেইমার কাঁদছেন ঈশ্বরের কাছে নত হয়ে প্রার্থনায়!

স্পোর্টস ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *