ধর্ষণ প্রমাণের জন্য নারীর যৌনাঙ্গে আপত্তিকর দুই-আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে বিশেষ পরীক্ষা (টু-ফিঙ্গার টেস্ট) করার অনুমতি দিয়ে জারি করা নির্দেশিকা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের সরকার। সোমবার নির্দেশিকা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। গত বছর এই আপত্তিকর পরীক্ষা নিষিদ্ধ করা হলেও হঠাৎ করে গত ৩১ মে আবার এর অনুমোদন দিয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। এই নির্দেশিকা জারিতে যারা সাক্ষর করেছিল সেই কর্মকর্তাদেরও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারত সরকার।
‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’-এর বিরুদ্ধে নারী অধিকার কর্মীরা কয়েক বছর ধরেই সোচ্চার। ২০১৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যৌন নিপীড়নের ঘটনা যাচাইয়ে অন্য কোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করতে সরকারকে নির্দেশ দেন। ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ নারীর সম্মান নষ্ট করে বলেও উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৪ সালে সরকার এই আপত্তিকর পরীক্ষা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
এরপর গত ৩১ মে দিল্লি সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করে। এতে বলা হয়, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ করা যেতে পারে। এটি নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে না। এতে বলা হয়, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ফলাফল বেশি নির্ভরযোগ্য হয়। এতে নির্যাতিতা নারীর সুবিচার পাওয়া সহজ হয়। এ ধরনের পরীক্ষা করার আগে নারীর মতামত নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
নির্দেশিকা জারির পর মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁদের মতে, ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ নির্যাতিত নারীকে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। এভাবে নারীর সতীত্ব যাচাইয়ের একধরনের চেষ্টা করা হয়। পুরুষ চিকিৎসকেরাও ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ করেন। এটি নারীর জন্য চরম অবমাননাকর।
২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দিল্লিতে বাসে গণধর্ষণের শিকার হয়ে প্যারামেডিক্যালের ছাত্রী ‘নির্ভয়ার’ মৃত্যু ঘটে। এতে ভারতজুড়ে আন্দোলনের ঝড় ওঠে। তীব্র আন্দোলনের মুখে ভারতে যৌন হয়রানি আইন জোরদার করা হয়। ধর্ষণের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। দেশের সেকেলে পেনাল কোডও পরিবর্তন হয়। এ সময় ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়। ২০১৪ সালে ভারতের স্বাস্থ্য গবেষণা বিভাগ ও চিকিৎসা গবেষণা বিষয়ক কাউন্সিল এই পরীক্ষা অবৈজ্ঞানিক বলে চিহ্নিত করে। পরে এটি নিষিদ্ধ করা হয়।
কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply