এপ্রিল মাসে সুদ হার কমানো নিয়ে হৈচৈয়ের মধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে ২৪ হাজার ১৪১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।
সঞ্চয়পত্র বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে এপ্রিলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ এসেছে ২ হাজার ৯৫৭ কোটি ১ লাখ টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে এতো বেশি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা থাকেনি।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে ২৪ হাজার ১৪১ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা বেশি। এ বছর নিট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। সব চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র।
পরিবার সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ২ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। মূলত এই তিন ধরনের সঞ্চয়পত্রের বিক্রিই বেশি হয়ে থাকে।
চলিত অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হয়েছে। এই সময়ে ডাকঘরের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার ৯০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ৮হাজার ৭৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।
সঞ্চয়পত্র ব্যুরোর মাধ্যমে দশ মাসে নীট বিনিয়োগ হয়েছে ৪ হাজার ৪৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল্য পরিশোধ বাবদ ১১ হাজার ৩৩ কোটি ০৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আর সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৭ হাজার ৯৩৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে গত ২৩ মে পাঁচ ধরনের সঞ্চয়পত্রে প্রায় ২ শতাংশ সুদ কমিয়ে ১১ শতাংশের আশে-পাশে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply